আজ আমার মন খারাপ
একটা ফোন পেয়ে মন খারাপ হয়ে গেল। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমার আব্বা তার চাকরি থেকে অবসর নেবেন। আব্বা বেসরকারি একটি হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক। বেসরকারি হাই স্কুলে এতদিন সহকারী প্রধান শিক্ষকের আলাদা কোনো বেতন স্কেল ছিলনা। খুব সম্ভবত গত বছরই একবার বাসায় যাওয়ার পর আব্বা আমাকে নতুন গ্রেডের আদেশ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ক’দিন পরই শুনি, ওই আদেশের বিরূদ্ধে আদালতে রিট করেছেন শিক্ষাজীবনে তৃতীয় শ্রেণী পাওয়া কয়েকজন শিক্ষক। কারণ ওই আদেশে তৃতীয় শ্রেণীধারীদের সহকারী প্রধান শিক্ষকের প্রাপ্য গ্রেড পাওয়ার সুযোগ ছিলনা।
এরপর অনেক দিন কেটে গেল। আজ সন্ধ্যায় আব্বার সঙ্গে কথা বলার সময় বেশ চিন্তিত মনে হলো। পরে জানলাম, কয়েকজন সহকারী প্রধান শিক্ষক নতুন গ্রেড পেয়েছেন। কিন্তু তার নাম এখনো আসেনি। আর আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে যদি না আসে তাহলে হয়তো আর কোনো দিনই পাবেননা। এর প্রভাব পড়বে পেনশনের নামে সামান্য যা কিছু পাবেন তার ওপরও।
আম্মার কাছে শুনলাম, প্রাপ্য নতুন গ্রেডের সুবিধা পাওয়ার জন্য কয়েক দফায় জেলা শিক্ষা অফিসে টাকা দিতে হয়েছে। তা নাহলে ফাইল কোনো দিন শিক্ষাভবনে আসবেনা।
এদেশে একজন মানুষের প্রাপ্তি আর কতই বা হতে পারে। শিক্ষকতা শেষ করার পর এককালীন প্রাপ্য অর্থের জন্যও ঘুষ দিতে হয়। নইলে ফাইল নড়েনা। আমরা কীইবা করতে পারি।
এমপিওভুক্তির জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর তৈরি করা তালিকা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিষেদগার হয়েছে। বলা হয়েছে, এটা আওয়ামী লীগের স্কুল, ওটা বিএনপির স্কুল, জামাতের স্কুল। সংসদ সদস্যরা ডিও লেটার দিয়েছেন।
মাননীয় সংসদ সদস্যরা কি জানেননা একজন শিক্ষক কত প্রতীক্ষার সঙ্গে এমপিও ভুক্তির জন্য অপেক্ষা করেন। মনে হয় জানেন, কিন্তু অনুধাবন করেননা।
এ অবস্থা চলতে থাকলে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে তার সমর্থনপুষ্ট শিক্ষকরা এমপিরওভুক্ত হবেন। বিএনপির সময় বিএনপির শিক্ষকরা। আর যারা রাজনীতি করবেননা বা রাজনীতিরা মোড়কে চলবেননা তাদের কোনো প্রাপ্তি থাকবেনা।
No comments yet.