My Blog My World

Collection of Online Publications

ইফতারের রাজনীতি, রাজনীতির ইফতার

গত রাতেই শুনেছিলাম, আমাদের নেত্রী হাসিনা তার ইফতারে নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন আরেক নেত্রী খালেদাকে। যতদূর জানি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বেশিরভাগই রোজার দিন পানাহার থেকে বিরত নয়, বরং পান করতেই ব্যস্ত থাকেন। তবুও রোজার মাসে নেতাদের সম্মানে ইফতার আয়োজন। নেতা বলে কথা। সে রোজা রাখুক আর নাই রাখুক মাথায় সফেদ টুপি বসিয়ে ইফতার করতে হবে। এসব ছবি আবার নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে।
যা হোক, ইফতারেই ফিরে আসি। আজ সকাল নাগাদ টিভি স্ক্রলে দেখলাম, হাসিনা-খালেদা দু’জনই ইফতার আয়োজন করেছেন একই দিনে। তাদের মধ্যে এত মিল! একে অপরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সারা বছর আমাদের নেতারা রাজনীতি করেন। এবার তারা প্রতি বছরের মতো মেতেছেন ইফতার রাজনীতিতে। ইফতারের তারিখটা কি একটা আগে-পিছে করা যেতোনা? মনে হচ্ছে, দুই নেত্রী পরস্পরকে রক্ষা করেছেন।
সাধারণ একটা প্রশ্ন আমার মনে প্রায়ই জাগে। আমাদের দুই নেত্রী এক টেবিলে বসলে বা ইফতার করলে কার ক্ষতি? এর আগে জানা দরকার তারা পরস্পরকে মোকাবিলার জন্য জন্য কার বা কাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। আমার কেন জানি মনে হয়, হাসিনা-খালেদা তাদের পরামর্শদাতারা কোনো অবস্থাতেই চাননা পরস্পরের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ বা কুশল বিনিময় হোক। পাছে আবার পরামর্শদাতারা ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন-এই শঙ্কা তাদের মধ্যে নিশ্চয়ই আছে। নয়তো একই দিনে কেন তাদের ইফতারের নিমন্ত্রণ? তারা কি আগে থেকে পরস্পরের অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানতেননা?
এসব উত্তর যারা ভালো জানেন তারা হয় রাজনীতি করেন নয়তো করেন দালালি। গত কয়েক বছরে এদেশের মিডিয়ায় অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে। বেশিরভাগ মিডিয়া আজ রাজনীতি বা স্ট্যানবাজির জন্য স্বনামে পরিচিত। কেউ আওয়ামী লীগকে আশ্রয় দেয়, আবার কেউ বিএনপি-জামাতকে। গত কয়েক বছরে আবার প্রবল ক্ষমতাধর বিভিন্ন জালিয়াত গ্রুপের কল্যাণে উদ্ভব হয়েছে তথাকথিত নিরপেক্ষ কিছু স্ট্যানবাজ পত্রিকার। এমন একটা পত্রিকার মালিক হতে পারলে দূর্নীতির দায়ে জেলে যেতে হয়না, দেশের ভাগ্য যেমন নির্ধারণ করা যায় তেমনি ঘায়েল করা যায় প্রতিপক্ষকে।
মামলাবাজ উপদেষ্টা থেকে সম্পাদক হওয়া এক জ্ঞানপাপীর দৈনিক পত্রিকায় গত কয়েক মাসে প্রধান সংবাদ হিসেবে ইতিবাচক কোনো খবর দেখেছি বলে মনে পড়েনা। এতো গেল বিরোধী দলকে সমর্থন দেওয়া পত্রিকার অবস্থা। সরকারকে সমর্থন দেওয়া পত্রিকাগুলো আবার এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করে যা দেখে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যাই নেই। বিভিন্ন ব্যবসায়িক গ্রুপের তথাকথিত নিরপেক্ষ পত্রিকাগুলো তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে দু’পক্ষকেই পালাক্রমে ঘায়েল করে। পাঠকরা তাদের মতাদর্শের বিরোধী পক্ষের খবর দেখলেই মনে করে, কতোইনা নিরপেক্ষ পত্রিকা! এসব স্ট্যানবাজি থেকে আমরা কবে মুক্তি পাবো জানিনা। আর এসব ইফতার রাজনীতি আর রাজনীতির ইফতারের মতো স্ট্যানবাজির অবসান হওয়া জরুরি।

Advertisements

August 28, 2009 - Posted by | Media, National, Personal, Political | ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: