My Blog My World

Collection of Online Publications

জামায়াতকে ক্রমেই কোণঠাসা করে আনছে সরকার

সূত্র: বেঙ্গলি টাইমস
জামায়াতকে ক্রমেই কোণঠাসা করে আনছে সরকার। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে একের পর এক মামলা হচ্ছে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। দেশত্যাগেও আরোপ করা হয়েছে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা। উন্মুক্ত জনসভার অনুমতি নেই দীর্ঘদিন। গোপন সাংগঠনিক তৎপরতাতেও বাধা আসছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত দুই মাস ধরে রাজধানীসহ দেশের কোথাও উন্মুক্ত জনসভার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না জামায়াতকে। বাধা আসছে ঘরোয়া সমাবেশেও। ঢাকায় দুটিসহ এ পর্যন্ত ৭টি সমাবেশস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ছড়াতে পারে_ এই শঙ্কায় তা গোপন রাখা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এমপি ঘটনার
সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘জামায়াতের সভা-সমাবেশের বেলায় সরকার রক্ষণশীল ভূমিকা নিয়েছে।’ ঢাকায় অন্তত ১০টি সমাবেশের আবেদন নাকচ হয়ে গেছে বলে জানান অপর এক নেতা।
ব্যক্তিমালিকানাধীন কমিউনিটি সেন্টারে সাংগঠনিক সভা করতে চেয়েও পুলিশের অনুমতি পাচ্ছে না। ঢাকার বাইরেও একই অবস্থা। প্রশাসন অনুমতি দিলে খবর পেয়ে ক্ষমতাসীন দল পাল্টা সমাবেশ ডেকে বসে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন বাধ্য হয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে। সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট দর্শনা কেরুর ফুটবল মাঠে জামায়াতের প্রতিনিধি সমাবেশে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পাল্টা সমাবেশ ডাকে। জামায়াত সেক্রেটারি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন।
ঘটনার উল্লেখ করে মুজাহিদ বলেন, ‘বিরোধী দলকে অবাধ রাজনীতি করতে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর নিজ মুখের ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী তার ঘোষণার ব্যাপারে আন্তরিক হলে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’ এ অবস্থায় করণীয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় দলটির নীতিনির্ধারকরা। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ কামারুজ্জামান বলেন, ‘জামায়াতের জন্য পরিস্থিতি সবসময়ই কঠিন। এই বাস্তবতা মেনেই চলতে হবে। আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি এসব কীভাবে মোকাবেলা করা যায়।’
চার দলকে সক্রিয় করে মাঠে নামার ইচ্ছা জামায়াতের, কিন্তু পরিস্থিতি প্রতিকূল। বিএনপির মতিগতি এখনও পরিষ্কার নয়। কোন কৌশলে এগোবে তা নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। চার দল সক্রিয় হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে কামারুজ্জানের সতর্ক মন্তব্য, ‘সামনে একটা কিছু হয়তো হবে, তবে অর্থবহ রাজেনৈতিক মেরুকরণ হলেই কেবল জামায়াত অগ্রসর হবে।’
চার দল সক্রিয় হলে খৰ আরও শানিত হওয়ার আশঙ্কা জামায়াতের। বিএনপির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে জামায়াত আবার সক্রিয় হলে সহ্য করবে না ক্ষমতাসীনরা। জামায়াতের বিশ্বাস, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যু এই সূত্রেই গাঁথা। তাদের যুক্তি, ‘৯৬-এর নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে গোলাম আযম সারাদেশ চষে বেড়িয়েছেন, তখন টুঁ শব্দটিও করেনি আওয়ামী লীগ।
এবার ক্ষমতাসীনরা জামায়াতের ব্যাপারে অনমনীয়। দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাককে বিদেশ যেতে বাধা দেয় সরকার। উচ্চ আদালতে শরণাপন্ন হয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাক এ যাত্রায় নিষ্কৃতি পান। এরপর বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে। তার বিরুদ্ধে পিরোজপুরে দায়ের করা হয় যুদ্ধাপরাধের মামলা। সাঈদীর পর আর কোনো নেতা বিদেশ যেতে বিমানবন্দরে যাননি।
ইতিমধ্যেই দলের নায়েবে আমির একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে খুলনার বাগেরহাটে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জানের বিরুদ্ধে শেরপুরে, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সাংসদ আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যশোরে। কামারুজ্জামানের মন্তব্য, ‘এসব সরকারের ব্যাড ইনডিকেশন।’
রেটিং দিন :

Advertisements

September 6, 2009 - Posted by | National, Political | , , ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: