My Blog My World

Collection of Online Publications

শিশু অধিকার সনদের ২০ বছর

আলবার্ট রেকনেগেল

(ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো অপরারেশন জার্নাল থেকে ভাষান্তর মেহেদী হাসান তালুকদার )
২০ বছর আগে ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শিশু অধিকার সনদ অনুমোদন করেছিল। এর ৫৪ টি অনুচ্ছেদ এবং দুটি প্রটোকলের আওতায় শিশুদের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে তাদের মৌলিক অধিকার। সনদ অনুসারে পরিবার, সরকার এবং সমাজকে সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার েেত্র শিশুদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র এবং সোমালিয়া ছাড়া জাতিসংঘের সব সদস্য ঐ সনদ অনুমোদন করেছে। মানবাধিকার বিষয়ক অন্য কোনো সনদ এত সমর্থন পায়নি। পাঁচ বছর পর পর সনদে স্বারকারী দেশগুলোকে জেনেভায় শিশু অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিটির কাছে অগ্রগতির ব্যাপারে জানানোর কথা। অনেক েেত্র দেশে সুশীল সমাজ বা সংগঠনগুলোর জোট সনদ বাস্তবায়নে সরকারের প্রচেষ্টার উপর নজর রাখছে। প্রায়শই বিভিন্ন দেশের এমন জোটের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
সনদ প্রণয়নের পর থেকে বিভিন্ন েেত্র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বে শিশু মৃত্যুর হার ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ১৯৯৯ সালে প্রাথমিক শিা কার্যক্রমে শিশুদের অংশ গ্রহণের হার ছিল ৮১ শতাংশ। ২০০৬ সালে এ হার দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৯৫ হাজারেরও বেশি শিশু যোদ্ধাকে নিরস্ত্র করা হয়েছে। নারী ভ্রুণ হত্যা এখন প্রায় সব দেশেই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের দেশগুলোর প্রায় অর্ধেকই শিা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের মারধর করাকে নিষিদ্ধ করেছে।
এরপরও আমাদের করণীয় রয়ে গেছে অনেক। বিশ্বে প্রতিদিন পাঁচ বছর বয়সী প্রায় ২৫ হাজার শিশু মারা যায়। তাদের অধিকাংশ মারা যায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হামের মতো সাধারণ রোগে যা সহজে নিরাময় বা রোধ করা যায়। এখনও ১৮ বছরের কম বয়সী প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার শিশু-কিশোরকে যৌন পল্লী বা যৌন বিষয়ক প্রকাশনার জন্য যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। সারা বিশ্বে ১৮ বছরের কম বয়সী প্রায় এক লাখ শিশু-কিশোরকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। ভ্রুণ হত্যা নিষিদ্ধ হলেও ইয়েমেন এবং আফ্রিকার অনেক দেশে প্রতিদিন আট হাজারের বেশি কণ্যা শিশু ভ্রুণ হত্যা করা হচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলোতে অনেক শিশু শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কেবল জার্মানিতেই প্রায় তিন লাখ শিশু শরণার্থী যে কোনো সময় বহিষ্কৃত হওয়ার আশঙ্কায় অনিশ্চিত সময় কাটাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি করেছে বাড়তি উদ্বেগের। আশঙ্কা আছে, শিশু অধিকার বাস্তবায়নে বিশ্ব গত ২০ বছরে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তার চেয়েও বেশি পিছিয়ে পড়তে পারে আগামী দিনগুলোতে। উন্নত বিশ্ব এখন নিজেদের অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে ব্যস্ত। আর এটি এমন এক সময় হচ্ছে যখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর ব্যাপক সাহায্য প্রয়োজন।
এটাও উল্লেখযোগ্য যে, সনদ অনুমোদনের পর ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও নীতি নির্ধারণী বিষয়গুলোতে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। অথচ সনদে বলা আছে, শিশুদের উপর প্রভাব পড়ে এমন যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার েেত্র শিশুদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। এ েেত্র কয়েকটি দেশ অবশ্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। দণি আফ্রিকার শিশুরা তাদের জন্য বরাদ্দ বাজেট পরীা-নিরীা করতে পারে। নেপালের শিশুরা গ্রাম উন্নয়ন কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক এবং এসোসিয়েশনের কার্যক্রমে অংশ নেয়। অন্য দেশগুলো এগুলো অনুসরণ করতে পারে।
শিশু অধিকার সনদ শিশুদের উন্নয়ন এবং বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছে। তাই একে স্বাগত জানানোর যুক্তি আছে। তেমনি এখানেই থেমে থাকার অবকাশ নেই। সনদ পূর্ণ বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রয়োজন তাকে সময়োপযোগী করা।
সনদে স্বার করার পর নির্দিষ্ট সময় পরপর শিশু অধিকার বিষয়ক কমিটিকে কেবল অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দেশগুলোকে শিশু অধিকার বাস্তবায়নে বাধ্য করা। এ ব্যাপারে দেশে দেশে স্বাধীন, নিরপে পর্যবেণ ব্যবস্থাও দরকার। এছাড়া আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালও গঠণ করা যেতে পারে যেখানে অধিকার বঞ্চিত শিশুরা তাদের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে।
আলবার্ট রেকনেগেল: শিশু অধিকার আন্দোলনের কর্মী

Advertisements

November 20, 2009 - Posted by | Children

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: