My Blog My World

Collection of Online Publications

ওবামা চার্চিল নন

নিম গার্ডিনার

ওয়াশিংটন ভিত্তিক পররাষ্ট্র বিষয়ক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিম গার্ডিনার। ফক্স নিউজ চ্যানেল, সিএনএন, বিবিসি, স্কাই নিউজ এবং এনপিআরসহ মার্কিন এবং ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়শই অংশ নেন তিনি। ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকা থেকে  ভাষান্তর মেহেদী হাসান

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বারাক হোসেন ওবামা ওভাল অফিস থেকে স্যার উইনস্টন চার্চিলের আব মূর্তি সরিয়ে তা প্যাকেটে ভরে পাঠিয়েছিলেন ব্রিটিশ দূতাবাসে। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর ব্রিটিশ জনগণের প থেকে পাঠানো এই উপহারটি জর্জ ডব্লিউ বুশের সময় হোয়াইট হাউজে বেশ গর্বের জায়গায় ছিল। কিন্তু তার উত্তরাধিকারী ওবামার কাছে তা যেন বাড়তি জিনিস মনে হলো।
গত মঙ্গলবার রাতে ওয়েস্ট পয়েন্টে আফগানিস্তান নিয়ে পরিকল্পনা ঘোষণার সময় চার্চিলের মতো দৃঢ়তা দেখানোর প্রয়োজন ছিণ বারাক ওবামার। কিন্তু না, এমন কিছু দেখানোর মতো অবস্থা ওবামার ছিলনা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্ট ওবামার ভাষণে তার দেশ, মিত্র এবং শত্র“দের সামনে যেমন তার নেতৃত্ব, শক্তি, সঙ্কল্প প্রকাশ করা প্রয়োজন ছিল, তেমনি প্রয়োজন ছিল ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক মিত্রদের পূণরায় আশ্বস্ত করা। উপস্থিত ক্যাডেটদের সামনে তার দেওয়া ভাষণে এ সবকিছুরই যেন ঘাটতি ছিল। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার মনোভাবের দৃঢ়তা তার বক্তব্যে ফুট উঠলোনা। বরংচ তার বক্তব্য ছিল সাধারণ এক অধ্যাপকের একঘুয়ে বক্তব্যের মতো যেন তিনি নিজেই তার পরবর্তী পদপে নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন। তার শীতল বক্তব্য আমাদের আশ্বস্তও করেনি, অনুপ্রেরণাও জুগায়নি।
ওবামার চরম আতœরামূলক বক্তব্যে ইরাক যুদ্ধ, আগের মার্কিন প্রশাসনের আফগান নীতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলতে পারেননি যে-‘আমি বন্দি নির্যাতন বন্ধ করেছি’ বা ‘গুয়ান্তানামো বে কারাগার বন্ধে আমি উদ্যোগ নিয়েছি’। ৪০ মিনিট ধরে বক্তব্য রাখার সময় নিরব দর্শক-শ্রোতারা করতালি দেওয়ার মতো অবকাশ পাননি। কেবল বক্তব্যের শেষ দিকে মার্কিন মূল্যবোধ এবং গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা করতালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে শত্র“ হিসেবে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত না করার জোর চেষ্টা চালিয়েছেন। এড়িয়ে গেছেন সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত ‘ইসলামের অনুসারী’- এমন শব্দও। বরং তিনি তার যুদ্ধকে বার বার নাম দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম’ হিসেবে। তার এমন বক্তব্য মার্কিন মিলিটারি একাডেমির চেয়ে বার্লিন, স্ট্রাসবার্গ বা প্যারিসে বামপন্থী ছাত্রদের সন্তুষ্ট করার জন্য বেশি যথেষ্ট ছিল। বক্তব্য দেওয়ার সময় ওবামার পা বেশ নড়বড়ে মনে হলেও পাথরের মতো কঠিন মূর্তির মতো পাশে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারী কিনটন।
প্রায় তিন মাস ধরে আফগানিস্তানে তালেবানদের বিরুদ্ধে ইরাকের মতো কষ্টদায়ক অভিযান চালানোর পর প্রেসিডেন্ট মার্কিন কমান্ডার যে সংখ্যক সৈন্য চেয়েছিলেন তার অর্ধেকেরও কম সৈন্য পাঠানোর ঘোষণা দিলেন। জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর বিজয়ের জন্য ৮০ হাজার সৈন্য চেয়েছিলেন। অথচ প্রেসিডেন্ট মাত্র ৩০ হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিলেন।
২০১১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের যে ঘোষণা প্রেসিডেন্ট দিলেন তা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তালেবান এবং আল-কায়েদার মিত্ররা তার এ ঘোষণায় খুশি হবে। সৈন্য প্রত্যাহারের পে একমাত্র যুক্তি হতে পারে যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়। ওবামার ৮০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতি প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে এ বছর যুদ্ধ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার।
আফগান যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাদের অবদানও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অথচ ঘনিষ্ঠ মিত্রের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধটুকুও ফুটে উঠলোনা ওবামার বক্তব্যে। আফগানিস্তানের দণিাঞ্চলে ১০ হাজারেরও বেশি ব্রিটিশ সৈন্য মোতায়েন আছে। সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে তাদের ২৩০ জনেরও বেশি সাহসী সদস্য নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রের এই ত্যাগের কথা স্মরণ করা উচিত ছিল ওবামার।
যুক্তরাষ্ট্র এবং মুক্ত বিশ্ব ওবামার কাছে আরো শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। রোনাল্ড রিগ্যান এবং উইনস্টন চার্চিলখে অনুসরণের বদলে ওবামা যেন ছাড় দেওয়া এবং অনিশ্চয়তাকে বেছে নিয়েছেন। আফগানিস্তানে পশ্চিমা শক্তির বিজয় নিশ্চিত করতে হলে ওবামার এই মনোভাব বদলাতে হবে। নি:সন্দেহে আরো ১০ হাজার সৈন্যকে আফগানিস্তানে পাঠানো সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু তা তালেবানের বিরুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। তালেবানদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা শক্তির লড়াই অশুভ অপশক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির লড়াই হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ইউরোপসহ যারা মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন তাদেরকে এই লড়াইয়ে সর্বাতœক প্রতিরোধ ড়ড়ে তুলতে হবে। আমাদের শহরগুলোকে আল-কায়েদার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে হলে এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতে হবে। এই যুদ্ধে এমন প্রেসিডেন্টকেই নেতৃত্ব দেওয়া দরকার যিনি বিশ্বাস করেন যে, অপশক্তি পরাজিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওয়েস্ট পয়েন্টে বক্তব্য রাখার সময় প্রেসিডেন্ট ওবামার সুযোগ ছিল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করার। কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য, দৃশ্যত প্রেসিডেন্ট ওবামা ব্যর্থ হলেন।

Advertisements

December 2, 2009 - Posted by | Foreign Affairs, Uncategorized

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: