My Blog My World

Collection of Online Publications

হাইতি দুর্যোগ পুঁজিবাদের জন্য ধাঁধা

নিবন্ধটি ২১ জানুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে।

সংক্ষেপিত ভাষান্তর: মেহেদী হাসান

মূল লেখা: অ্যাডাম হানফট

দুর্যোগ যেন পুঁজিবাদীদের জন্য ধাঁধা হয়ে আসে। যখনই বিশ্বে বড় কোনো দুর্যোগের খবর প্রকাশিত হয়, তখন আমেরিকান করপোরেশনগুলোর মধ্যে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর দায়বদ্ধতা অগ্রাহ্য করলে প্রতিযোগিতায় অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে এটি এমন এক যুগ, যেখানে ভোক্তারা প্রত্যাশা করে বড় কোম্পানিগুলো দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়াবে। তবে দুর্গতদের জন্য নগদ অর্থ বা অন্য কোনো সাহায্য প্রদানের খবর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলে সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিদের ভিড় বাড়ে। তবুও ওয়েবসাইটে দানবিষয়ক খবর প্রকাশের প্রতিযোগিতা চলে। হারিকেন ক্যাটরিনা-পরবর্তী সময়ে ওয়ালমার্ট দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর এক নজির সৃষ্টি করেছিল। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে করপোরেট প্রতিষ্ঠানটির দান সম্পর্কে বলা হয়েছিল, ‘করপোরেশনের ভাবমূর্তি যখন সংকটে তখন ২০ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ সাহায্য, এক হাজার ৫০০ ট্রাকভর্তি প্রয়োজনীয় পণ্য, এক লাখ মানুষের খাবার, বাস্তুচ্যুত হওয়া প্রত্যেক কর্মীর জন্য চাকরির প্রতিশ্রুতি দুর্গত মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে।’ এবার হাইতির দুর্যোগের সময় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কী করছে? বিশ্বের সুপরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হাইতির জন্য তহবিলের পরিমাণকে খুব আশাহত হওয়ার মতো বিষয় বলে মনে করা না হলেও খুব সামান্য বলতে হবে। ক্যাটরিনা-পরবর্তী সময়ে ওয়েবসাইটগুলোতে মানবিক আবেদন ও দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি সাহায্য কার্যক্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান থাকত। এবার হাইতির ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়ে যেন তাও নেই। আমাদের এ তাৎণিক যোগাযোগের বিশ্বে সেকেন্ডের মধ্যে ওয়েবসাইট বদলে দেওয়া যায়। আর্থিকভাবে প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে ‘হাইতির জনগণের জন্য দুঃখ ও সমবেদনা জানাই’ এমন বক্তব্য লিখে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। গোল্ডম্যান সাচ, ব্যাংক অফ আমেরিকা, জেপি মর্গান এবং মর্গান স্ট্যানলির সিইওরা গত সপ্তাহে আর্থিক সঙ্কট সম্পর্কিত কংগ্রেশনাল কমিটির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ক্যাটরিনা-পরবর্তী সময়ে তাঁরা কী পরিমাণ সাহায্য করেছিলেন তা আমার জানা নেই। তবে এখন হাইতির ব্যাপারে পুরোপুরি নীরবতা কাম্য নয়। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁরা হাইতির জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানটুকুও তো অন্তত জানাতে পারেন। ওয়ালমার্ট হাইতির ব্যাপারে তার উদ্যোগটিকে ওয়েবসাইটে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেনি। রেডক্রসের লোগো সংবলিত এক নিবন্ধের নিচে লেখা আছে ‘সাহায্য প্রয়োজন- এমন ব্যক্তিদের জন্য ওয়ালমার্টের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হোন।’ ওয়ালমার্টের প্রতিদ্বন্দ্বী টার্গেট অবশ্য তার হোম পেজে তাদের প্রতিষ্ঠান কিভাবে সাহায্য করছে, তা উল্লেখ করেছে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ কিভাবে সাহায্য করতে পারে, তারও উল্লেখ আছে ওয়েবসাইটে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো হাইতির ব্যাপারে যে নজর রাখছে তা তাদের ওয়েবসাইটের খবর দেখলেই বোঝা যায়। তারা তাদের দর্শকদের জানাচ্ছে, কারা কিভাবে দান, অনুদান গ্রহণ করছে। তবে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটগুলো তাদের পাঠক বা দর্শকদের কাছ থেকে দান, অনুদান গ্রহণ করার যেমন কোনো সুযোগ রাখেনি, তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এনপিআর পাঠকদের কাছ থেকে দানের অর্থ সংগ্রহ করে হাইতির জন্য তহবিল সংগ্রহ করলেও নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ইউএসএ টুডে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বড় কনজ্যুমার ব্র্যান্ডগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মুখে এত দিন সামাজিক দায়বদ্ধতার বুলি শোনা গেলেও হাইতিতে ভূমিকম্পের পর তাঁরা যেন একেবারে নীরব হয়ে গেছেন। স্টারবাকস, নাইকের মতো নীরব হয়ে আছে বিশ্বখ্যাত কোকা-কোলাও। কোকা-কোলা এর আগে বড় অঙ্কের অর্থ দিলেও এবার তাদের ওয়েবসাইটে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর কোনো উদ্যোগের প্রমাণ নেই। তাদের ওয়েবসাইটে এখনো চলছে ‘ওপেন হ্যাপিনেস’-এর প্রতিশ্র“তি। হাইতির জনগণ যখন পানীয় জল আর খাদ্যাভাবে কাতরাচ্ছে, তখন এ ধরনের ‘ওপেন হ্যাপিনেস’ প্রচারণা পুঁজিবাদী ধাঁধার বড় উদাহরণ। আমাজনের ওয়েবসাইটে হাইতির জনগণকে সাহায্য করার আহ্বানটুকু অন্তত স্থান পেয়েছে। তবে প্রযুক্তিবিষয়ক বড় কোম্পানিগুলো মুখে যেন কুলুপ এঁটেছে। হাইতির দুর্যোগ নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই আইবিএম, এইচপি, ভেরিজন ও সনির। মাইক্রোসফট এবার প্রাথমিকভাবে এক দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার সাহায্য দেওয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে অন্যদের পেছনে ফেলেছে। মাইক্রোসফটের ওযেবসাইটে বলা হয়েছে, মানবিক সাহায্য সংস্থা এবং উদ্ধারকর্মীরা যাতে হাইতির দুর্গত জনগণকে সাহায্য করতে পারেÑযেজন্য অলাভজনক অংশীদার নেটহোপের সহযোগিতায় মাইক্রোসফট দেশটির টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে। গুগল এবং অ্যাপল আছে এবার ব্যতিক্রমীদের তালিকায়। গুগল তার তথ্যভাণ্ডার দিয়ে হাইতির জনগণের পাশে বিশ্ববাসীর দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। ওয়েবসাইটে গুগলের এক মিলিয়ন ডলার দানের কথা বলা হলেও এতে ইউনিসেফ, কেয়ারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাপলের ওয়েবসাইটের ছোট্ট একটি বার্তা নিয়ে যাবে আইটিউন স্টোরে। সেখানে রেডক্রসকে ৫ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত দান করার সুযোগ রয়েছে। সবশেষে ভ্যাটিকানের ওয়েবসাইটটিতে দৃষ্টি দেওয়া যাক। এই সাইটটিতে এখনো হাইতির ভূমিকম্পের কোনো খবর নেই। এখনো তাতে কেবলই ২০০৯ সালের বড়দিনের খবর। হারিকেন ক্যাটরিনা বা ২০০৪ সালের সুনামির সময় ইন্টারনেট আজকের মতো বহুল প্রচলিত ছিল না। হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর আমেরিকার অধিকাংশ করপোরেট প্রতিষ্ঠান দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বদলে দেশ ছেড়েছে। অথচ ওয়েবসাইট বা কোনো মাধ্যমেই তারা তা স্বীকার করেনি। পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ওয়েবসাইটকে এমন অবস্থায় রেখেছে, যার মাধ্যমে হাইতির দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর এই নৈতিক বিপর্যয়ের কারণ আমি জানি না। বৈশ্বিক মন্দা যদি ডিজিটাল ও সামাজিক গণমাধ্যমের পথ সংকুচিত করে থাকে, তবে স্বীকার করতে হবে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় পরিসরে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করছে। লেখক: মার্কিন রাজনৈতিক কলামিস্ট সংক্ষেপিত ভাষান্তর: মেহেদী হাসান

Advertisements

January 21, 2010 - Posted by | International, Media |

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: