My Blog My World

Collection of Online Publications

ইরান নিয়ে উন্মত্ততা বিপদ ডেকে আনবে

প্যাট্রিক সিল এর এই নিবন্ধটি গালফ নিউজ থেকে নেওয়া। সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর: মেহেদী হাসান

নিবন্ধটি ১৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখ রাঙানি যত বাড়বে, ততই অবাধ্য হবে ইরান। আশঙ্কা বেড়ে যাবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক আলোচনার টেবিল থেকে দেশটির দূরে সরে যাওয়ার। পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্দেশ্যের ব্যাপারে ইরান অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ। এ কারণেই দেশটি ইউরেনিয়াম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, পারমাণবিক চুল্লির জন্য আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যে ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় নতুন করে উন্মত্ত আচরণ করছে পশ্চিমা দেশগুলো। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে বাধ্য করতে দেশটির উপর নতুন করে অবরোধ আরোপের হুমকিও দেয়া হচ্ছে। এবারের বিরোধ কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে। রাশিয়া এবং চীনকে ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেওয়ার বিনিময়ে ওই দেশগুলোর কাছ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি রড পাওয়ার আশা করছে ইরান। তেহরানের প থেকে বলা হচ্ছে, এই ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হবে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে। অস্ত্র তৈরির কাজে তা ব্যবহার করা হবে না। ইরান তার ইউরেনিয়াম রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করলেও পশ্চিমা দেশগুলো চায় পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সম্ভাবনা দূর করতে দেশটি তাদের কাছে ইউরেনিয়ামের চালান সমর্পণ করুক। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোত্তাকি গত সপ্তাহে আইএইএর নতুন প্রধান ইউকিয়া আমানুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মোত্তাকি ওই বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইউকিয়া আমানুর বক্তব্যও ছিল অভিন্ন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রভাবশালী দেশগুলো স্পষ্টতই বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি জোট ইরানের বিরুদ্ধে জোরালো অবরোধ আরোপ করতে চায়। এর মাধ্যমে ইরানকে দমানো না গেলে বোমা হামলা চালিয়ে দেশটির পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য জোটটি ইরানকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক আলোচনার টেবিলেই রাখতে চায়। কোনো ধরনের অবরোধ বা ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই ওই জোটের। দুই জোটের মাঝে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ইতিপূর্বে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত তাঁর মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কিত নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইরানবিরোধী যে জোট কঠোর অবস্থান নিতে চায় তাতে ইসরায়েলের ভূমিকা মুখ্য। ১৯৯০-এর দশকে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল ইরানের বিরুদ্ধেও তেমন ব্যবস্থা নিতে জোটটি অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ দিয়ে আসছে। ওই জোট মনে করে, ইরানের সম্ভাব্য পরমাণু অস্ত্র ইসরায়েল এবং সারা বিশ্বের জন্য বড় হুমকি। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ এবং প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে মোকাবিলায় তাঁরা সারা বিশ্বকে একতাবদ্ধ করতে চান। অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পে যে জোটের অবস্থান তাতে চীন, তুরস্ক, ব্রাজিল এবং ইরানের প্রতিবেশী আরব দেশগুলো বেশ সক্রিয়। ইরানকে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে দেখার কোনো আগ্রহ আরব দেশগুলোর নেই। বরং তারা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন। এ যুদ্ধ বাঁধলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে এবং জ্বালানি তেল রপ্তানিও বিঘ্নিত হবে। ইরানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন যে কোনো ধরনের অবরোধ আরোপের বিরোধিতা করে নিরাপত্তা পরিষদে ইরানবিরোধী যে কোনো প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। আরব লীগ মহাসচিব আমর মুসা আরব বিশ্বকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আওতায় ইরান যখন শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে চাইছে তখন দুই জোটের প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। ইরান ইতিমধ্যে যে পরিমাণ শাস্তি পেয়েছে তার চেয়ে আরো কঠোর শাস্তি হয়তো দিতে চাইবে পশ্চিমা দেশগুলো। ওবামা হয়তো কঠোর অবরোধ আরোপ করার ব্যাপারে সম্মত হতে পারেন। এ সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরামন্ত্রী রবার্ট গেটস ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তিনি কোনোভাবেই ইরানে হামলা চালানোর প্রস্তাব সমর্থন করেন না। ধারণা করা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামাও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে হামলা হলে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে। ইসরায়েলপন্থী সমালোচকরা ওবামাকে ‘প্রতিক্রিয়াহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মার্কিন সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর জো লিবারম্যান বলেছেন, কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ কিংবা সামরিক অভিযান- ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্বকে এর কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। ইরান পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান আসবে না। লিবারম্যানের আশঙ্কা সম্পূর্ণ ভুল হতে পারে। আরবদের অনেকেই বিশ্বাস করেন, ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকলে অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্ত হবে। প্রতিবেশীদের উপর ইসরায়েলের আগ্রাসন কমবে। ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে শক্তির ভারসাম্য এলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে। ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে। ১১ ফেব্র“য়ারি ইরানে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের বার্ষিকী উদযাপনের সময় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দেশটির পরমাণু কর্মসূচিকে কতটা প্রভাবিত করে, সারা বিশ্ব তা দেখার অপোয় ছিল।

লেখক: মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কয়েকটি গ্রন্থের প্রণেতা ও বিশ্লেষক।

নিবন্ধটি গালফ নিউজ থেকে নেওয়া। সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর: মেহেদী হাসান

Advertisements

February 12, 2010 - Posted by | Foreign Affairs, International, Peace, Political | , , , , , , , , ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: