My Blog My World

Collection of Online Publications

গুজরাট-দাঙ্গার তদন্তকারীরাই কাঠগড়ায়

মনোজ মিত্তা

(নিবন্ধটি ২২ মার্চ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে )

আবারও সংকট সৃষ্টি হলো গুজরাটের দাঙ্গা-বিষয়ক মামলাগুলো নিয়ে। প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা-বেস্ট বেকারি ও বিলকিস বানু-গুজরাটের বাইরে স্থানান্তর করলেন। এর ফলে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলো। তবে এই মামলা দুটির বিচারপ্রক্রিয়া গুজরাটের বাইরে স্থানান্তর করার মাধ্যমে আমরা আবারও গুজরাটে দাঙ্গা-মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ দেখতে পেলাম। আদালত ইতিমধ্যে গুলবার্গ হত্যাযজ্ঞের বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন। গুলবার্গ হত্যাযজ্ঞে কংগ্রেস দলীয় সাংসদ এহসান জাফরিসহ কমপক্ষে ৬৯ জন নিহত হন। তবে আদালত ওই স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন সরকারপক্ষের কেঁৗসুলি আর কে শাহ’র বিস্ময়কর এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে। শাহর অভিযোগ ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ করা বিশেষ তদন্ত দল এবং বিশেষ আদালতের জনৈক বিচারক পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েছেন।
শাহ আরো অভিযোগ করেছিলেন, বিশেষ তদন্ত দল আইনজীবীদের তেমন নিরাপত্তা দিচ্ছে না। আর বিচারকও মামলায় সত্য উদঘাটনের ব্যাপারে আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন না। বিভিন্ন মহল থেকে বাধা সত্ত্বেও যেসব প্রতিষ্ঠান গুজরাট দাঙ্গার বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, সুপ্রিম কোর্ট তাদের অন্যতম। দৃশ্যত, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট কোনো চেষ্টাই আর বাদ রাখছেন না। তবে এরপর কী হবে, তা এক বড় প্রশ্ন। আদালত কি এবার বিশেষ তদন্ত দলকে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে বলবেন? নাকি বিশেষ তদন্ত দল পুনর্গঠনের আদেশ দেবেন?
বিশেষ তদন্ত দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা আগের চেয়ে এখন আরো কমে গেল। এমনকি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানোর পরও তদন্ত দল নিয়ে মানুষের আস্থা সহজে ফিরবে না। জাকিয়া জাফরি নামে এক ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদিসহ ৬২ প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা বেশ বড় ব্যাপার।
সমালোচকরা বলেছেন, বিশেষ তদন্ত দল চাইলে আরো আগেই মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ডেকে পাঠাতে পারত। বিশেষ তদন্ত দলের এখতিয়ারে ৯টি মামলা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে গুলবার্গ মামলা অন্যতম। এই মামলায় নরেন্দ্র মোদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেত। গুজরাটের যেসব পুলিশ কর্মকর্তা দাঙ্গার সময় দায়িত্ব পালন করেননি, রাহুল শর্মা তাঁদেরই একজন। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের কথোপকথনের রেকর্ড উপস্থাপন করেছেন। এমনকি আদালতে সাক্ষীদেরও অনেকে বলেছেন, এহসান জাফরি নামে এক ব্যক্তি দাঙ্গায় নিহত হওয়ার কিছু সময় আগে মোদিকে ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। মোদি তাঁকে সাহায্য করার বদলে ধমক দিয়েছিলেন। হঠাৎ মোদিকে তলব করায় এই মামলা নিয়ে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
বিশেষ তদন্ত দল নিয়ে অবিশ্বাসের শুরু এর গঠন-প্রক্রিয়া থেকেই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ব্যুরোর সাবেক প্রধান আর কে রাঘাবানের নেতৃত্বাধীন ওই দলে গুজরাট পুলিশের এমন পদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন, যাঁরা দাঙ্গার সময় নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। তদন্ত দলে গুজরাট পুলিশের যে তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছেন, তাঁরা হলেন শিবানন্দ ঝাঁ, গীতা ঝরি ও আশীষ ভাটিয়া। তাঁদের মধ্যে শিবানন্দ ঝাঁ জাফরির মামলার আসামি।
বিশেষ কেঁৗসুলি শাহ অভিযোগ করেছেন, আশীষ ভাটিয়া মামলায় নতুন নতুন এমন সাক্ষ্য উপস্থাপন করছেন, যার সঙ্গে আগের সাক্ষ্যগুলোর কোনো মিল নেই। আদালতে সাক্ষী ও আসামিরা তাঁদের প্রকৃত বক্তব্য উপস্থাপন করলে ভাটিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন মাত্রা লাভ করে।
বিশেষ তদন্ত দল পক্ষপাতদুষ্ট কি পক্ষপাতদুষ্ট নয়, সে ব্যাপারটা না হয় আলোচনার বাইরেই থাকল। কিন্তু এটা তো সত্য, ওই দল মামলায় সরকারপক্ষের আইনজীবীদেরও সাহায্য করেনি। শাহ অভিযোগ করেছেন, আদালত গুলবার্গ হত্যাযজ্ঞের মামলার আসামিকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। এর আগে বেস্ট বেকারি মামলায়ও একই অভিযোগ উঠেছিল। তাই সুপ্রিম কোর্ট মনে করেছেন, বেস্ট বেকারি বিলকিস বানু মামলার বিচার গুজরাটে হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।
সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী শুনানির সময় শাহ হয়তো আদালতের কাছে জানতে চাইবেন, গোধরা ট্রেনে আগুন ধরানোর ঘটনা কেন ওই বিশেষ তদন্ত দল তদন্ত করবে? গুজরাট পুলিশের দাবি, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মদদে ওই ট্রেনে আগুন ধরানো হয়েছে। বিশেষ তদন্ত দল ওই মামলার আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। ইলিয়াস হোসেন নামে এক ব্যক্তি আদালতের কাছে অভিযোগ করেছেন, বিশেষ তদন্ত দলের কর্মকর্তারা তাঁকে অপহরণের পর ৯ মাস আটকে রেখে নির্যাতন করে মামলায় সাক্ষী হয়ে সত্যপ্রকাশে বাধা দিয়েছেন।
গুজরাট দাঙ্গা মামলাগুলো নিয়ে আরো কত কিছু হতে পারত। সুস্পষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে পারতেন মন্ত্রী মায়া কররানী। মনে হচ্ছে, আইন, বিচারব্যবস্থা তার স্বাভাবিক গতিতে চলেনি। দাঙ্গায় নিহত মানুষের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য দোষীদের শাস্তিটুকু অন্তত নিশ্চিত করা উচিত।
লেখক : সাংবাদিক
টাইমস অব ইন্ডিয়া থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর : মেহেদী হাসান

Advertisements

March 22, 2010 - Posted by | Foreign Affairs, International | ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: