My Blog My World

Collection of Online Publications

গণতন্ত্র ও ‘ইরাকতন্ত্র’

দেবোরা আমোস

(নিবন্ধটি ১ এপ্রিল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে)
ইরাকে নাটকীয় নির্বাচন থেকে নতুন এক পরীক্ষা শুরু হলো। এ পরীক্ষা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক দরকষাকষির। এ যেন নতুন এক ‘ইরাকতন্ত্র’, যা নিয়ে খুব আশাবাদী নন ইরাকে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ডেভিড পেট্রাস। ইরাকে নাজুক আইনের শাসনের চিত্র আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। এ সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যমে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক এজেন্ট আয়াদ আলাবির জয়ের খবর ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিজয় আবারও তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া বা ইরাক শাসনের সুযোগ পাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে না। নির্বাচনে আলাবি সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তাঁদের জোট ইরাকের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ৯১টি আসন পেয়েছে। আর নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির জোট পেয়েছে আলাবির জোটের চেয়ে মাত্র দুটি কম অর্থাৎ ৮৯টি আসন। সরকার গঠন করতে হলে ইরাকের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ১৬৩ সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। সে হিসাবে আলাবির প্রয়োজন তাঁর জোটের বাইরে আরো ৭২ সদস্যের সমর্থন। অন্যদিকে আরো ৭৪ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন মালিকির। সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে আলাবি-মালিকি দুই নেতাই জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইরাকের বিচারব্যবস্থা সব সমীকরণকে বদলে দিতে পারে।
এদিকে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে আরো সহিংসতার আশঙ্কা করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি। তাঁর আরো গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়, তিনি ইরাকের সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। মালিকির শীর্ষ সহযোগী আলী আল-আদিদ ইরাকের নির্বাচনের ফল নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, ইরাকের শিয়ারা সুনি্ন মতাবলম্বী আলাবির বিজয় ও শাসন মেনে নেবে না। মালিকির দলের এমন মনোভাবের ব্যাপারে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গ্যারি গ্র্যাপ্পো। তিনি এক পর্যবেক্ষণে স্বীকার করেছেন, নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে নিতে মালিকির দল সব ধরনের চেষ্টাই চালাতে পারে। গ্র্যাপ্পোর বক্তব্যের সমর্থনসূচক প্রমাণ পাওয়া যায় ইরাকের আদালতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে। নির্বাচনের আগে থেকেই আদালত যেন তাঁর নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। ইরাকে ক্ষমতা যতটা না প্রাতিষ্ঠানিক তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক। মালিকি যতক্ষণ ক্ষমতায় আছেন ততক্ষণ তিনি আবারও ক্ষমতায় আসার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রের সব সুবিধা কাজে লাগাবেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগের দিন সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা যেন মালিকির জন্যই বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। আদালত বলেছেন, সবচেয়ে বড় জোটই আগে সরকার গঠনের সুযোগ পাবে। তবে ভোটের ভিত্তিতে নাকি দলের সংখ্যার ভিত্তিতে জোটের শক্তি পরীক্ষা হবে তা আদালত স্পষ্টভাবে বলেননি। আদালত এ-ও বলেছেন, জোট গঠনে বিলম্ব হলেও কোনো অসুবিধা নেই। এর অর্থ হলো আগামী কয়েক দিনে মালিকির জোট যদি ছোট জোটগুলোকে তাদের জোটভুক্ত করতে পারে তাহলে তারা আলাবির জোটের সরকার গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আলাবির বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারে আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচনের প্রাক্কালে শুধু সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বাথ পার্টির সঙ্গে যোগসূত্র থাকার অভিযোগে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল হয়। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের অধিকাংশই শিয়া মতাবলম্বী। অন্যদিকে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিই সুনি্ন। আর তাঁদের মধ্যে আলাবির দলের একজন জনপ্রিয় নেতাও রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনাকারী বিচার বিভাগীয় প্যানেল যেন ওই প্রার্থীদের নিষিদ্ধ করাকে সমর্থন করেছিলেন। এখন আবার নতুন করে ৫০ জনের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে আলাবির দলের একাধিক নেতা আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এটাই ইরাকি রাজনীতি। এখানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে যেন সর্বময় ক্ষমতা। দীর্ঘদিন ধরে কারাভোগ করছেন এমন ব্যক্তিদের কারাগার থেকে মালিকি মুক্তি দিয়ে ছোট জোটগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। এ-ও বলা হয়েছে, আলাবির দলের কমপক্ষে চারজন প্রার্থীর ব্যাপারে তদন্ত করছে মালিকির নিরাপত্তা কর্মীরা। ‘ইরাকতন্ত্র’ এমন এক ব্যবস্থা যেখানে নির্বাচনে পরাজিতরা সংঘাত, সহিংসতা ঘটাতে পারেন। পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা না হলেও এখানে পরাজিতরা বিজয়ীকে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন না।
পরিবর্তিত ইরাকে ভোটাররা তাহলে কী বার্তা দিলেন? বিশ্লেষকরা মনে করেন, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মালিকির সামনে এখন ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই। আর আলাবির সামনে কঠিন পথ। সরকার গঠন করতে হলে কুর্দি ও শিয়াদের সঙ্গে তাদের আপস করতে হবে এবং ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে হবে।
লেখক : গ্লোবাল পোস্টের সম্পাদক
খালিজ টাইমস থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর : মেহেদী হাসান

Advertisements

April 1, 2010 - Posted by | Foreign Affairs, International, Peace | ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: