My Blog My World

Collection of Online Publications

কথা রাখা হলো না

সকাল থেকে আমার মাথাটা চিন চিন করে ব্যাথা করছে। নিয়ম মাফিক অফিসে এসে যে কাজগুলো করার কথা সবই করছি এক এক করে। নিজের দিক থেকে তাড়া ছিল সাবেক এক সহকর্মীকে দেখতে যাবার। সত্যিকার অর্থেই তিনি আজ সাবেক-ই হয়ে গেলেন। আজ সকালে টিভি ছাড়ার পর যখন স্ক্রলে সংবাদ শিরোনাম হিসেবে দেখলাম- ভোরের কাগজের বার্তা সম্পাদক জহিরুল আহসান টিপু ভাই ইন্তেকাল করেছেন, তখন সত্যিই এক জীবন্ত টিপু ভাই এসে যেন আমার স্মৃতিতে হাজির হলেন। টিপু ভাই, বাংলামোটরের রাহাত টাওয়ারে ভোরের কাগজের অফিসে কত দিনই তো তার সঙ্গে নাইট ডিউটি করেছি। একটা শব্দ মনে পড়ছে- সখ্য। ছবির ক্যাপশনে আমি লিখেছিলাম সখ্যতা। তিনি বরাবরের মতো খুব স্বাভাবিক কায়দাতেই বলেছিলেন, ‘সখ্যতা’ শব্দটি ভুল। সখ্য লিখো।’ হ্যাঁ, আমি এখন সখ্য লিখি। তারই কথা মতো বলবো, ভোরের কাগজের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সহকর্মীদের সখ্য। বড়রা না চাইলে ছোটরা তাদের কাছে পৌঁছতে পারে না- ভোরের কাগজ ছাড়ার পর অন্তত এ বিষয়টি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। বার্তা সম্পাদক হিসেবে টিপু ভাইয়ের সঙ্গে বার্তা বিভাগের কনিষ্ঠ সদস্যদেরও কোনো দূরত্ব ছিল না। ভোরের কাগজে থাকাকালে প্রায়ই রাতে এক প্লেটে পরোটা খেতাম। তিনি খাওয়াতেন। অনেককেই ডাকতেন-পাষন্ড বলে। ডাকটা অনেক শুনতে মধুর লাগতো। সেই টিপু ভাই গতকাল মারা গেছেন। আকস্মিক মৃত্যু। বয়স আর কত হয়েছে? ৫০ বছরেও গড়ায় নি। নি:সন্দেহে এ অকাল মৃত্যু।

কর্মীর জীবন-মৃত্যু কোনো কিছুর মধ্যেই তো পত্রিকার যাত্রা অবরুদ্ধ থাকে না। কয়েক মাস আগে অফিসে কাজ করতে করতে মারা গেলেন আহমেদ ফারুক হাসান, আমাদের ফারুক ভাই। পরদিন তার পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ স্বল্পতা হয়তো কিছুটা হলেও ঘুচেছিল তারই মৃত্যু সংবাদ দিয়ে। টিপু ভাইয়ের ক্ষেত্রেও অনেকটা তাই হলো। সেদিনের প্রথম সংস্করণের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে অসুস্থ হলেন, মারা গেলেন। পত্রিকা কোনো স্কুল নয় যে কাজ বন্ধ করে শোক দিবস পালন করবে। এক মুহুর্তও থেমে থাকবেনা এর পথ চলা।

পৃথিবীতে তো কোনো কিছুই থেমে থাকে না।  গণমাধ্যমে শূণ্যস্থান একটু বেশি দ্রুতই পূরণ হয়। তবে মনে হয়, শূণ্যতা পূরণ হয় না।

পরিবার, পরিজন আর অর্থকে বেশি গুরুত্ব না দিয়ে কেবল সাংবাদিকতা পেশার প্রতি টান থেকে আমার যে সহকর্মীরা দিন-রাত কাজের মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষমতা উজাড় করছেন, তাদের সবাই কেন জানি এক এক করে হারিয়ে যাচ্ছেন। ভোরের কাগজ ছাড়ার দিন টিপু ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় চোখে জল চলে এসেছিল আমার। টিপু ভাই বলেছিলেন, আমরা আবার একসঙ্গে কাজ করবো। এরপর মাঝে দু’একবার যোগাযোগ হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের শেষ দিকে তাকে ফোন করেছিলাম তার কর্মক্ষেত্র বদলানোর সম্ভাবনা শুনে। তিনি বলেছিলেন, যোগাযোগ রাখতে। দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততায় তা আর হয়ে ওঠেনি। আজ অফিসে এসেই যখন তাকে ফেসবুকে পেলাম তখন তিনি অনলাইনে নেই। আর কখনোই তাকে পাওয়া যাবেনা। আমার আর যোগাযোগ করা হবে না।

Advertisements

April 24, 2010 - Posted by | Analysis, Media | ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: