My Blog My World

Collection of Online Publications

ব্রিটিশ রাজনীতিতে আধুনিকতার সূচনা

টিম লুকহার্স্ট

(নিবন্ধটি ১০ মে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে)

ইংল্যান্ড, নর্দান আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস_এই চার ভূখণ্ডের যুক্তরাজ্যের (গ্রেট ব্রিটেন) মধ্যে ইংল্যান্ড বৃহত্তম। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল ইংল্যান্ডের ওপর স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিয়েছে। এর ফলে যে অসন্তুষ্টি দেখা দেবে তাতে যুক্তরাজ্যও ভেঙে যেতে পারে। ব্রিটিশ রাজনীতি নিয়ে যাঁরা পড়ালেখা করেছেন তাঁরা নিশ্চয়ই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভারনন বগডানোরের কথা শুনেছেন। অধ্যাপক ভারনন বলেছেন, ব্রিটেনে কোনো লিখিত সংবিধান নেই। কারণ সংবিধান প্রণয়নের মতো প্রেক্ষাপট ব্রিটেনে কখনো আসেনি। ফরাসি এবং আমেরিকান সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে বিপ্লবপরবর্তী পটভূমিতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সংবিধান প্রণয়ন করেছে জার্মানি ও ইতালি। আমরা অর্থাৎ ব্রিটিশ জনগণকে ওই দেশগুলোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। চার্লস ডিকেন্সের পডস্ন্যাপের মতো, আমরা ধারণা করি যে অলিখিত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে যে দূরদর্শিতা প্রয়োজন, তা আমাদের আছে। অন্য দেশগুলো আমাদের মতো নয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন তাঁর করণীয় সম্পর্কে জানতে গত শনিবার ক্যাবিনেট সেক্রেটারির পরামর্শ চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে এবার স্বীকার করা উচিত, অলিখিত সংবিধান নিয়ে আত্দতুষ্টি অনুভব করা অনেক বড় বোকামি। নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে বিভিন্ন দলের নেতারা যে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন, তা হয়তো ইউরোপে নতুন নয়। কিন্তু এটি দেখতে দেখতে ভোটাররা শিগগিরই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। ইউরোপের অন্য দেশের নেতারা যখন নির্বাচনপরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তাঁদের সামনে অনুসরণ করার মতো বিধি থাকে।

ব্রিটেনে ২০১০ সালের নির্বাচন লিখিত সংবিধান প্রণয়নের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। আমরা যদি এখন আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে লিখিত সংবিধান প্রণয়ন না করি তাহলে যুক্তরাজ্য ভেঙে যেতে পারে। ১৯৯৭ সালে লেবাররা খণ্ড খণ্ডভাবে সাংবিধানিক বিপ্লবের সূচনা ঘটিয়েছিল। এটি এখন অনিচ্ছাকৃত বিভিন্ন হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে স্কটল্যান্ডের ভোটাররা ৪১ লেবার, ১১ লিবারেল ডেমোক্র্যাট, ছয় স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট এবং একজন কনজারভেটিভকে এমপি নির্বাচিত করেছে। ইংলিশ ভোটাররা এমপি নির্বাচিত করেছেন ২৯৭ কনজারভেটিভ, ১৭১ লেবার এবং ৪৩ জন লিবারেল ডেমোক্র্যাটকে। সরকার গঠনের সমীকরণ এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে যুক্তরাজ্যের ক্ষুদ্রতম অংশের জনগণ বৃহত্তম অংশের জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

কনজারভেটিভ নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের জন্য ডেভিড ক্যামেরন ও নিক ক্লেগের মধ্যে আলোচনা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা লেবারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে এমনটিই হয়। কিন্তু এখানে যা নেই তা হলো কোনো লিখিত বিধি।

শিক্ষানীতির জন্য কনজারভেটিভদের অনেকে ভোট দিয়েছেন। লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে জোট হলে তাঁরা দেখবেন, স্কটিশ লেবার এমপিদের ভোটে শিক্ষানীতি আটকে গেছে। অন্যদিকে কনজারভেটিভরা জোট করে ক্ষমতায় গেলে দেখা যাবে স্কটিশ ভোটারদের স্বপ্নগুলোও পূরণ হচ্ছে না।

স্কটিশ স্কুলগুলো হলিরুড থেকে পরিচালিত হয়। সেখানে একজন নির্বাহী নির্বাচিত হন স্কটিশদের ভোটে। আমার নিজের কাউন্টি কেন্টের আসনগুলো থেকে ১৭ জন কনজারভেটিভ এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বসবেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আলোচিত অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দান আয়ারল্যান্ডের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সেবা ব্যবস্থাসহ অভ্যন্তরীণ ব্যাপারও থাকবে। ভূখণ্ডগুলোর চাহিদা ভিন্ন হলেও পার্লামেন্টে তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটে না। যেমন স্কটল্যান্ড ‘পোল ট্যাক্স’-এর জন্য ভোট দেয়নি। এর পরও স্কটল্যান্ডই প্রথম এই সুবিধা পেয়েছে। ওয়েলস তার কয়লাখনিগুলোর অধিকার চাইলেও ম্যাগি (মার্গারেট থ্যাচার) তা দেননি। তাই স্কট ও ওয়েলসরা এমন একটি আইন বা বিধান চায়, যা তাদের কোনো একটি দলের দ্বারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য হওয়া থেকে রক্ষা করবে। তবে ইংলিশরা ডেভিড ক্যামেরনকে বেছে নিয়েছে এবং স্কট ও ওয়েলসরা তাকে প্রত্যাখান করতে পারে।

এবার ক্যামেরনের আধুনিকতাবাদীদের অবশ্যই তাদের আধুনিকতা প্রমাণ করতে হবে। কনজারভেটিভ পার্টি ব্রিটিশ জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। স্কট, ওয়েলস ও উলস্টার এমপিরা যদি ইংল্যান্ডের সরকার নির্বাচন করেন তাহলে তাদের দাবি আরো জোরালো হবে। এখন সব ভূখণ্ডের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সবাইকে একমত হতে হবে।

আমেরিকার সংবিধান জনগণের নামে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও কল্যাণকে উৎসাহিত করে। আমেরিকা আমাদের চেয়ে ‘অনেক যোগ্য’ ইউনিয়ন। ব্রিটিশ গণতন্ত্রের সংকটময় এই সময়ে আমাদের সামনে লিখিত ও স্পষ্ট বিধি দরকার। লেবাররা এ ক্ষেত্রে খুব দ্রুত এগিয়েছিল। আবার তারা হেরেও গেছে। কারণ লেবারবিরোধী রাজনীতিকরা ভেবেছিলেন, ১৯৪৫ সাল পরবর্তী সময়ে দুই মেরুর রাজনীতিই স্থায়ী রূপ পেয়েছে। তাঁদের ধারণা ভুল ছিল।

আমাদের অমীমাংসিত নির্বাচনে অনেক সংকটই প্রকাশ পেয়েছে। একজন পরাজিত প্রধানমন্ত্রী কত দিন তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন, তা নির্ধারণের জন্য কেন আমাদের অতীতের নজির খুঁজতে হবে? জনমত যাচাই না করে ভোট দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তন করার পেছনে কতটা যুক্তি আছে?

২০১০ সালের নির্বাচন ব্রিটেনকে আধুনিক রাজনীতির কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও কলুষমুক্ত রাখতে আমাদের আধুনিক আইন-কানুন প্রয়োজন। একটি সংবিধান এই একতাবদ্ধ ইউনিয়নকে রক্ষা এবং সবার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। ক্যামেরনের উচিত এই বিষয়টি তার সরকার গঠনের আলোচনায় আনা এবং এ ব্যাপারে আপস না করা।

লেখক : স্কটসম্যান পত্রিকার সাবেক সম্পাদক ও কেন্ট বিশ্ববিদ্যালযের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক

ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা থেকে সংক্ষিপ্ত

ভাষান্তর : মেহেদী হাসান

Advertisements

May 10, 2010 - Posted by | Analysis, Foreign Affairs, International, Political |

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: