My Blog My World

Collection of Online Publications

শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তির খোঁজে

এম কে ভদ্র কুমার

(নিবন্ধটি ১৭ মে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে আফগানিস্তান ও ইরান। তবে ওবামার সাফল্যের যে গল্পটি নীরবে আড়ালে পড়ে আছে, তা হলো রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আফগানিস্তান বা ইরাক হোক কিংবা এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য বা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত সব ইস্যুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সমঝোতার আবহ দেখা যাচ্ছে। ইরান ও জর্জিয়া, ভেনিজুয়েলা ও ইউক্রেন কিংবা চীন ও ভারত কেউ-ই মার্কিন-রুশ সম্পর্কোন্নয়নের কথা অস্বীকার করতে পারবে না।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে রুশ কূটনীতি’ শীর্ষক এক নিবন্ধে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ রাশিয়ার আত্দবিশ্বাস বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলে অভিন্ন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রুশ-মার্কিন সম্পর্কোন্নয়নের পর থেকে এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শীতল যুদ্ধের পর যে পরিস্থিতি ছিল তাও কেটে যাচ্ছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে রুশ-মার্কিন সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত সপ্তাহের কথাই ধরা যাক_ওবামা প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক পুনঃস্থাপনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট ওবামা রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু চুক্তির বিষয়টি মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপন করেছেন। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে এ চুক্তিতে যৌথভাবে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন ও সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। (নয়াদিলি্লর জন্য এ চুক্তি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারত রাশিয়ার পারমাণবিক জ্বালানির সম্ভাব্য ক্রেতা।) দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্ট ওবামা আগামী জুনে রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এটি হবে এক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মেদভেদেভের দ্বিতীয় সফর। এ বছর দুই নেতা ইতিমধ্যে দুবার বৈঠক করেছেন। এর একটি হয়েছে গত এপ্রিলে প্রাগে স্টার্ট © (START) সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে, অন্যটি ওয়াশিংটনে পরমাণু সম্মেলন চলাকালে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা সম্প্রতি রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর (NATO) সমঝোতা বাড়ছে। ওবামা বলেন, তিনি মনে করেন যে ইউরোপের সব পক্ষ এবং ন্যাটো জোটের সব সদস্য রাশিয়ার সঙ্গে গভীর ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। তিনি আরো বলেন, ‘ইউরোপের পরিস্থিতি নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত। আমরা যদি স্থিতিশীল ইউরোপ প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয়ের জন্যই মঙ্গল হবে।’
ওবামা আরো বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ইউরোপে নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর যে প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র তা নিয়ে আন্তরিকভাবে চিন্তা-ভাবনা করেছে। রুশ প্রেসিডেন্টের ওই নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ইউরো-আটলান্টিক এবং ইউরো-এশিয়া অঞ্চলকে অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়।
ওবামা যে রুশ পরিকল্পনা আন্তরিকভাবে বিবেচনা করছে তাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দৃশ্যত রুশ পরিকল্পনা মেনে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বেচা-কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি অকল্পনীয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্র আজারবাইজানের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে এবং রুশ কম্পানি নর্ড স্ট্রিম ও সাউথ স্ট্রিমের সঙ্গে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে ইউরোপের জ্বালানি বাজারের সঙ্গে রুশ জ্বালানি সূত্রগুলোর নতুন করে সম্পর্ক জোরদার হবে।
সব লক্ষণ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যখন দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্কোন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না, বরং স্থিতিশীল ইউক্রেন প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করছে।
ইউরো-এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অভিন্ন স্বার্থের কথা ওবামা স্বীকার করেছেন। ইতিমধ্যে আরেকটি রঙিন বিপ্লবের মাধ্যমে কিরগিজস্তানে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। বিশকেকের অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে গত কয়েক দিনে মস্কো-ওয়াশিংটন কাউকেই উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা শোনা যায়নি। ওবামা বলেছেন, কেবল নিরাপত্তা ইস্যু নয়, সব ক্ষেত্রেই রুশ-মার্কিন সমঝোতা হওয়া জরুরি। স্বনামধন্য রুশবিশ্লেষক গ্লেব পাভলোভস্কি সম্প্রতি বলেছেন, আমাদের (রুশ) ইউরোপীয় ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কোনো সাফল্য ছাড়াই শান্তির বীজ বুনে গেছেন পুতিন। আজ মেদভেদেভ তার সুফল পাচ্ছেন। রুশ-মার্কিন সম্পর্কের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রমাণ দেখা গেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ৬৫তম বার্ষিকীতে মস্কোর রেড স্কয়ারে। সে দিন মস্কোর প্যারেডে অংশ নিয়েছে মার্কিন সেনারাও। ওবামা বলেছেন, ৬৫ বছর আগে দুই দেশের মধ্যে মৈত্রীকে তিনি সর্বকালের সেরা সামরিক সমঝোতাগুলোর অন্যতম বলে মনে করেন। অন্যদিকে চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও রুশ নেতাদের সঙ্গে এক সারিতে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুুদ্ধে বিজয় উদ্যাপন করেছেন। সে সময় তিনি বলেছেন, এই দেশগুলোর একসঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বার্ষিকী উদযাপনের বিশেষ গুরুত্ব আছে।
লেখক: ভারতের সাবেক কূটনীতিক
দ্য হিন্দু থেকে
সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর : মেহেদী হাসান

Advertisements

May 17, 2010 - Posted by | Foreign Affairs, International, Peace, Political | , , ,

1 Comment »

  1. বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র…

    I found your entry interesting thus I’ve added a Trackback to it on my weblog :)…

    Trackback by আড্ডা ব্লগ | June 17, 2010 | Reply


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: