My Blog My World

Collection of Online Publications

ইসরায়েল নিয়ে ধৈর্যের বাঁধ কবে ভাঙবে?

মাহির আলী

(নিবন্ধটি ৪ জুন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে। কালের কণ্ঠে নিবন্ধটি পড়তে ক্লিক করুন)

‘গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজের ব্যাপারে ইসরায়েল সরকার ও আইডিএফের (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) আচরণে কে কী মনে করল তাতে আমাদের তেলআবিবের কিছু যায় আসে না।’ ইসরায়েলি সাংবাদিক ও লেখক ইয়োসি মেলম্যান দেশটির সংবাদপত্র হারেত্জ-এ এভাবেই গাজা অভিমুখী শান্তিদূতদের ওপর আক্রমণ চালানোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ‘ওই হামলা কতটা মর্মান্তিক আর নির্বুদ্ধিতার ছিল, তা বোঝা কঠিন। ইসরায়েল আবারও প্রমাণ করল, শক্তি প্রয়োগ করে যখন কিছু অর্জন করা যায় না তখন অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগে সাফল্য মেলে! আবারও প্রমাণ হলো আমাদের সরকারের বলপ্রয়োগের নীতি ব্যর্থ হয়। প্রতিটি ব্যর্থতার পর যে সমস্যা হয়, তা হলো আমরা বিশ্বের যে অংশটুকু আমাদের অধিকারে রাখতে চাইছি, সে অংশের জনগণ ইসরায়েলের ব্যাপারে ধৈর্য হারাচ্ছে।’ মেলম্যানের বক্তব্যের শেষ অংশটুকুর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করা কঠিন। তবে আমার প্রশ্ন, “ইসরায়েল আর কত দূর গেলে এই বিশ্ব বলবে_’যথেষ্ট হয়েছে’?” আমি এর কোনো উত্তর পাইনি। এমনকি আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় শান্তিদূতদের ওপর আইডিএফের বর্বর হামলার পরও কেউ বলতে পারছে না ইসরায়েল আর কত অঘটনের জন্ম দেবে।
আমি যখন এ নিবন্ধ লিখছি, তখন বেশ কয়েকজন শান্তিদূতকে হত্যার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হেলিকপ্টার থেকে মানবিক ত্রাণসাহায্য বোঝাই জাহাজে হামলা চালায়। ইসরায়েলের দাবি, একজন সৈন্য শান্তিদূতদের দ্বারা আক্রান্ত হলে তারা আক্রমণ করতে বাধ্য হয়। অথচ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েল আক্রমণ শুরুর পরপরই শান্তিদূতদের সঙ্গে বাইরের সব ধরনের যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইসরায়েলি হামলার খবরটি গণমাধ্যমে আসতে কিছুটা সময় লেগেছে। অনেক শান্তিদূত হতাহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাড়াও ইসরায়েলে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও ছিল। যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিক প্রকাশ করা হয়নি। পরে জানা গেছে, নিহতের অধিকাংশই তুরস্কের। এ ছাড়া আরব, ইউরোপীয় দেশের নাগরিক ছাড়াও পাকিস্তানি গণমাধ্যমের সদস্যরাও ছিলেন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১০ ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আইডিএফ বলেছে, তাদের কমান্ডোরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় যে প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছে তাতে তারা বিস্মিত হয়েছে। ইসরায়েলের এর পরের অভিযানের বৈধতা নির্ভর করছে যে প্রশ্নটির ওপর, তা হলো শান্তিদূতদের বহনকারী জাহাজগুলো কি ইসরায়েলের জন্য হুমকি ছিল? এ ক্ষেত্রে অনেকে হয়তো ইসরায়েলের পক্ষ নিতে পারেন। কেননা ইসরায়েল প্রচার করছিল, মানবিক ত্রাণ সাহায্যের আড়ালে হামাসের জন্য অস্ত্র আসছে।
জাতিসংঘের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গাজার জনগণের গড় দৈনিক আয় এক ডলারের কম। গাজার জনগণের ৭৫ শতাংশই ত্রাণসাহায্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। ৬০ শতাংশ জনগণ পর্যাপ্ত পানি পায় না। গাজায় বেকারত্বের হার হয়তো বিশ্বে সর্বোচ্চ। জানা গেছে, মিসর থেকে সুড়ঙ্গপথে চোরাচালানের মাধ্যমে যেসব পণ্য আসে, তার ওপর কর বসিয়েছে হামাস। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহায্য লাভকারী দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে সমঝোতা করে গাজার সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক ত্রাণসাহায্য পেঁৗছতে পারত। কিন্তু ইসরায়েলই ত্রাণসাহায্য বা পণ্যের চালান পেঁৗছাতে বিলম্ব করার মাধ্যমে গাজায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তাদের মিত্রদেরও দৃষ্টি এড়ায়নি। ইহুদিদের অনেক সংগঠন গাজাকে মুক্ত করার আন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছে। শান্তিদূতদের হত্যার পর ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এখনো দুঃখ প্রকাশ করেননি, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বক্তব্যেরও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েল নিয়ে আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার আগেই রাষ্ট্রটিকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সমর্থন আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আচরণ সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই।
লেখক : সাংবাদিক
পাকিস্তানের ডন পত্রিকা থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর : মেহেদী হাসান

Advertisements

June 4, 2010 - Posted by | Uncategorized | ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: