My Blog My World

Collection of Online Publications

যুদ্ধাপরাধীরা এ দেশকে পাকিস্তান বানিয়ে ছাড়বে :কালের কণ্ঠকে সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ ক্রিস ব্ল্যাক

(নিবন্ধটি ২০ জুন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে। কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি পড়তে ক্লিক করুন)

বার্নযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে (৯/১১) হামলার ঘটনার অন্যতম তদন্তকারী যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার না হলে বাংলাদেশকেও পাকিস্তানের পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চল, এমনকি বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। গতকাল শনিবার ঢাকায় কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একটি দল পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে। পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী এবং মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে এ সংগঠনের যোগাযোগ ও নীতি-আদর্শের মিল আছে। এই গোষ্ঠীগুলো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না এবং গোষ্ঠীর নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন করে না।
আজ রবিবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বিশ্ব শান্তি, ন্যায়বিচার, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মানবতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যে এ অঞ্চলের গণতন্ত্র, শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি, এরই আলোকে তিনি এ প্রবন্ধ তৈরি করেছেন। এতে তিনি যুদ্ধাপরাধসহ সব অপরাধের দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাবেন।
আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত বিভিন্ন জিহাদি সংগঠনের সঙ্গে জামায়াতের জড়িত থাকার প্রমাণ হিসেবে ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন ২০০৫ সালে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের নেতা কাজী হোসেইন আহমেদের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সৌদি ব্যবসায়ী হামজা জালাইদান মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগেরও (এমডবি্লউএল) প্রতিষ্ঠাতা। এমডবি্লউএলের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সংগঠনের পরবর্তী কর্মকাণ্ড নির্ধারণের জন্য ওই বৈঠক হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর ছাড়া হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন এমন ব্যক্তিরা তাঁদের দেশি-বিদেশি, সামনের-আড়ালের সব শক্তি নিয়ে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারেন বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন ব্ল্যাকবার্ন। তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা ইউরোপে বসে সারা বাংলাদেশে বোমা হামলার খবর শুনেছি। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংবাদমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বাংলা ভাইদের মধ্যে বর্বর-জঙ্গি সন্ত্রাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিল। এর মাধ্যমে ওই সরকার এ দেশে ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ বিকাশের সুযোগ দিয়েছিল।’
ব্ল্যাকবার্ন বলেন, ওই জঙ্গিরা এখনো আছে। তারা তাদের লালনকারী ও মদদদাতাদের রক্ষায় যেকোনো ভূমিকা নিতে পারে। তাই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি হওয়ায় বর্তমানে পাকিস্তানের জনগণ যে দুরবস্থা ভোগ করছে, যুদ্ধাপরাধের বিচার না হলে বাংলাদেশের জনগণকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।
যুদ্ধাপরাধ ও জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের মধ্যে যোগসূত্র আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন বলেন, অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলো, ১৯৭১ সালে একটি দল রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, পাকিস্তানি বাহিনীর জয় সহজ করতে এবং যুদ্ধের শেষ দিকে নিশ্চিত পরাজয়ের পটভূমিতে নতুন দেশের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করতে ওই দল ও তাদের সমমনারা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানোর পাশপাশি নানাভাবে যুদ্ধাপরাধ করেছিল। পরে ওই যুদ্ধাপরাধীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের যুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার এড়াতে পেরেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান সাহায্য-সহযোগিতায় তারা আর্থিক ও সাংগঠনিকভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ওই দলের সমর্থনপুষ্ট জোট ক্ষমতায় থাকাকালে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশকে তাদের নিরাপদ আশ্রয় মনে করেছে। ব্ল্যাকবার্ন মনে করেন, জামায়াতের মদদেই এটা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাংলাদেশ কতটা পাবে_এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাঁর দেশ অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের নতুন সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের বারাক ওবামা সরকারের যুদ্ধাপরাধের বিচারে আপত্তি নেই বলে তিনি মনে করেন।
ব্ল্যাকবার্ন বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য বাংলাদেশ সরকার চাইলে এ দুই দেশ চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বহিষ্কার করে এবং বাংলাদেশে পাঠানোর মাধ্যমে সরকার ও এ দেশের জনগণকে সহযোগিতা করতে পারে। জামায়াতের প্রতি সহানুভূতিশীল কিছু শিক্ষাবিদ যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে জনমত নেই বলে বিদেশে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব ব্যাপারে সরকারের সতর্ক হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন বলেন, শীতল যুদ্ধের পটভূমিতেই বিশ্বে ইসলামী জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিকাশ ঘটেছে। ৯/১১-এর হামলার পর রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছিল, সন্ত্রাসী হামলার মদদদাতাদের ধরতে চাইলে পাকিস্তানে যেতে। সম্প্রতি পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বাড়ি থেকে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র এ সত্যটি বুঝেছে। পরিহাসের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র সরকার গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নিলেই কোনো দলকে গণতান্ত্রিক বলে মনে করে। অথচ জামায়াত গণতন্ত্রকে ছুড়ে ফেলতে চায়। তিনি বলেন, পাকিস্তান বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র। পাকিস্তানের জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী, শিবির ও জেএমবির গভীর যোগাযোগ আছে।
৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম তদন্তকারী ছিলেন ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন। ওই তদন্তে কী কী বাধা ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানকে অবরোধ আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মোশাররফ সরকার সাহায্য করতে বাধ্য হয়েছিল। আমরা দেখছি, প্রায় সব জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের উৎস পাকিস্তান।’
ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন স্বীকার করেন, মুসলমান হওয়ার কারণে বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে অনেক যাত্রীকে হয়রানির শিকার হতে হয়। অথচ জঙ্গি-সন্ত্রাসের মদদদাতা ও যুদ্ধাপরাধীরা নির্বিঘ্নে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করে। যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় এমন হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ব্ল্যাকবার্ন বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে সরকারকে দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পিছিয়ে আসা যাবে না। নয়তো এ দেশকে যুদ্ধাপরাধীরা পাকিস্তান বানিয়ে ছাড়বে।
সাক্ষাৎকার : মেহেদী হাসান

Advertisements

June 20, 2010 - Posted by | Crime, Interview, National, Uncategorized | , ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: