My Blog My World

Collection of Online Publications

মৃত্যুদন্ড বাতিল করলে যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়বে : সিসিলিয়া উইকস্ট্রম

মেহেদী হাসান
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য সিসিলিয়া উইকস্ট্রম বলেছেন, বাংলাদেশে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার বিধান বাতিল করলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়বে। এছাড়া এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার সুনাম বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে এ সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ঢাকা আসা এ সুইডিশ নাগরিক কালের কণ্ঠকে এ কথা জানান। তাঁর এ বক্তব্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কিনা- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মৃত্যুদন্ডের বিরোধী। ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) মৃত্যুদন্ডের বিরোধী। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের প্রায় ১০ টি দেশকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার বিধান বাতিল করে ইইউ সদস্য হতে হয়েছে।
তিনি মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নীতিগতভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে সমর্থন করবে। তবে একই সঙ্গে যে দেশে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার বিধান আছে সে দেশে বিচার নিয়ে আমাদের শঙ্কা থেকেই যাবে।
সিসিলিয়া উইকস্ট্রম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সুসম্পর্ক থাকা সত্বেও মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হওয়া বা কার্যতর হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন কোনো ব্যক্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠায় না। এমনকি সরকারিভাবে চাইলেও তা করা হয় না। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আমরা ঈশ্বর নই। একজন ব্যক্তি যত বড় অপরাধই করুকনা কেন তার জীবন নিয়ে নেওয়ার অধিকার আমাদের নেই।
মৃত্যুদন্ড এদেশে আইন অনুযায়ী স্বীকৃত। স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে কোনো অপরাধীকে আদালত মৃত্যুদন্ড দিলে সেেেত্র ইউরোপের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে জানতে চাইলে সিসিলিয়া উইকস্ট্রম বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। যুদ্ধাপরাধ নয়, যে কোনো অপরাধের েেত্র মৃত্যুদন্ড দেওয়া অমানবিক। আমরা এমন কোনো বিচারকে সমর্থন করতে পারিনা যেখানে কুখ্যাত অপরাধীর বেঁচে থাকার অধিকার লংঘিত হয়। এজন্য আমি বলেছি, বিচার স্বচ্ছ হতে হবে।
স্বচ্ছতা বলতে কী বোঝাতে চাইছেন জানতে চাইলে সিসিলিয়া উইকস্ট্রম বলেন, আমরা বলেছি আন্তর্জাতিক পর্যবেকদের বিচার পর্যবেণের সুযোগ দিতে হবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত আইনি সেবা পাওয়ার সযোগ দিতে হবে। আইন মন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে পুরো বিচার আন্তর্জাতিক মানের হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া দেখতে আন্তর্জাতিক পর্যবেকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের বিরোধিতা করেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো তা ঠেকাতে পারেনি। আন্তর্জাতিক মান প্রতিষ্ঠার নামে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর বিচার ব্যবস্থায় হস্তপে করছে কিনা জানতে চাইলে সিসিলিয়া উইকস্ট্রম বলেন, আমরা ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক মান ও মানবাধিকারের কথা বলছি। মৃত্যুদন্ড একটি বর্বর ব্যবস্থা যা কেবল মধ্যযুগের সঙ্গেই মানানসই। তবে এটা সত্যি, আমরা বিরোধিতা করেও অনেকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া ঠেকাতে পারিনি। কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিলনা।
মৃত্যুদন্ড বিরোধী ভূমিকার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার বিধান আছে এমন দেশগুলোর বড় বড় অপরাধীরা ইউরোপে আশ্রয় নেয় এমন খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো অপরাধীকে তার প্রাপ্য শাস্তি থেকে বাঁচাতে কেউ যদি আশ্রয় নেয় তবে সেটিও সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। এটি করা ঠিক নয়। কিন্তু অপরাধীর মানবাধিকারের বিষয়টিও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপরাধীকে যদি শান্তি হিসেবে তার বেঁচে থাকার অধিকারটুকুই হারাতে হয় তবে তা অত্যন্ত দু:খজনক। মৃত্যুদন্ডের বিধান নেই এমন ব্যক্তিরা ইউরোপে আশ্রয় পেয়েছে এমন নজির কম।
সিসিলিয়া উইকস্ট্রম বলেন, অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার রীতি যে কোনো রাষ্ট্র বা সমাজের জন্য অত্যন্ত তিকর। এতে যেমন সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়না, তেমনি নাগরিকদের মধ্যেও অপরাধ করার প্রবণতা বাড়ে। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ হয়েছিল অনেক আগে। এত দিনে ঐ অপরাধীদের বিচার না হওয়ার প্রভাব নিশ্চয়ই এই দেশ ও সমাজের ওপর পড়েছে। বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে অবশ্যই যুদ্ধাপরাধের বিচার হতে হবে।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার কী কী বাধা আসতে পারে জানতে চাইলে সিসিলিয়া উইকস্ট্রম আবারো বিচার ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক মানের ঘাটতির কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর পর্যাপ্ত স্যা-প্রমাণ টিকে না থাকাও বড় বাধা হতে পারে। কিন্তু আইন মন্ত্রী আমাকে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে সরকারের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে।’
তিনি আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন এমন ব্যক্তিদের প্রতি তাদের রাজনৈতিক দল ও আরেকটি বড় দলের সমর্থন থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অপরাধীরা যদি রাজনৈতিকভাবে তাদের বিচার মোকাবিলা করতে চায় তাহলে বিচারক সত্যিকার অর্থেই প্রতিপ হয়ে যায়। অপরাধীর পে অবস্থান নিয়ে, সরবে বা নিরবে অপরাধীকে সমর্থন দেওয়ার কলঙ্ক কোনো দলেরই নেওয়া উচিত নয়। কেননা এটি এদেশের জাতীয় ইস্যু।
সিসিলিয়া উইকস্ট্রম বলেন, আমি বুঝতে পারিনা যে দেশের মানুষ এত আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল, সে দেশের মানুষ আবার কীভাবে এত নিষ্ঠুর হয়! এ দেশের মানুষ কীভাবে তাদের নেতাদের হত্যা করে তাতে সত্যি আমরা বিস্মিত না হয়ে পারিনা।
১৯৭২ সালের সংবিধান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ঐ সংবিধানটি আদর্শ ছিল। আমি মনে করিনা রাষ্ট্রের কোনো ধর্মীয় পরিচয় থাকা উচিত। রাষ্ট্র যখন ধর্মীয় পরিচয় ধারণ করে তখন প্রকৃত অর্থেই ধর্ম মানুষে মানুষে বিভেদ ঘটায়’।
সিসিলিয়া উইকস্ট্রম বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র নীতির প্রশংসা করেন। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের বিপদের কথা বিশ্বকে বোঝাতে সম হয়েছেন। সারা বিশ্ব এখন এ দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে অবগত।

Advertisements

June 22, 2010 - Posted by | Crime, International, Interview | , , , ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: