My Blog My World

Collection of Online Publications

জনশক্তি রপ্তানিতে অগ্রগতি নেই, কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ

মেহেদী হাসান

(নিবন্ধটি ৯ জুলাই কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে। কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি পড়তে ক্লিক করুন)

বিশ্বমন্দা কাটতে শুরু করলেও বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। মন্দার কারণে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে দেশের জনশক্তি রপ্তানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। কিন্তু এ বছরের প্রথম ছয় মাসেও জনশক্তি রপ্তানি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়েনি। জানা গেছে, একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব আর কতসংখ্যক কর্মী নিয়োগ করবে, তা নিয়ে দ্বিধায় আছে।
এদিকে মন্দায় বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার যেমন সংকুচিত হয়ে পড়েছে, তেমনি কাজের সুযোগ পেতে শ্রমিকদের মধ্যে বেড়েছে প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের সুযোগ পেতে আগ্রহী বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে না পারলে আগামী দিনগুলোতে দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এ খাত হুমকির মুখে পড়তে পারে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ৮২৪ জন কর্মীর। আগের বছর অর্থাৎ ২০০৯ সালে (জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর) চার লাখ ৭৫ হাজার ২৭৮ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনশক্তি রপ্তানির হার তেমন না বাড়ার কথা স্বীকার করেছেন বিএমইটি মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরীও। এ জন্য তিনি বিদেশে বাংলাদেশিদের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যে কাজের সুযোগ আগের মতো না বাড়াকে দায়ী করেছেন। খোরশেদ আলম চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও বিপুলসংখ্যক কর্মী সৌদি আরবে গেছে। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ কর্মী নেওয়া হবে, সে ব্যাপারে দেশটি চিন্তাভাবনা করছে। আবার অনেক দেশ বিদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বদলে নিজের কর্মীদেরই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এর পরও বাংলাদেশ সরকার বিদেশে নতুন বাজার সন্ধান করে চলেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশে ছোট পরিসরে হলেও বাজারের সন্ধান মিলেছে।’ এ ছাড়া লিবিয়া, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে জনশক্তি পাঠানোর ব্যাপারেও প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বায়রার সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, দেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
বিএমইটির হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে গেছেন চার হাজার ৪৯০ জন কর্মী। ২০০৯ সালে ১৪ হাজার ৬৬৬ জন কর্মী সৌদি আরবে যান। এর আগের দুই বছর অর্থাৎ ২০০৮ ও ২০০৭ সালে দেশটিতে গেছেন যথাক্রমে এক লাখ ৩২ হাজার ১২৪ ও দুই লাখ চার হাজার ১১২ জন বাংলাদেশি কর্মী। বাংলাদেশে এযাবৎ জনশক্তি রপ্তানির ৩৭ শতাংশেরও বেশি হয়েছে সৌদি আরবে।
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে (এক লাখ ১০ হাজার ১৯৯ জন)। বিভিন্ন দেশ থেকে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি কর্মীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রায় ৩৭ হাজার ৬৭৭ কোটি ২২ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রপ্তানি করে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে। ২০০৭ সালে আট লাখ ৩২ হাজার ৬০৯ জন এবং ২০০৮ সালে আট লাখ ৭৫ হাজার ৫৫ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।
জানা গেছে, সরকার নতুন শ্রমবাজারের খোঁজ করে চলেছে। পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমানোর জন্য বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকার নিজেও জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিচ্ছে। এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে আগামী অক্টোবরে ঢাকায় এশিয়ার ১১টি দেশের শ্রমমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ‘কলম্বো প্রসেস’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, ওই সম্মেলনে বিদেশে কাজের সন্ধানে যাওয়া শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমানোর ঘোষণা আসতে পারে।
এদিকে মন্দার কারণে বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি ওই বাজারে নিয়োগ পেতে কর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। বাংলাদেশি কর্মীরা তেমন দক্ষ না হওয়াটাও জনশক্তি রপ্তানি না বাড়ার অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত ‘অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যে সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, তাঁদের প্রায় অর্ধেকই (৪৯ শতাংশ) অদক্ষ বা কম দক্ষ। এঁরা সাধারণত বিদেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ঝাড়ুদার বা গৃহস্থালিকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। ওই বছরগুলোতে ৩১ শতাংশ দক্ষ কর্মী বিদেশে গেছেন। তাঁরা প্রবাসে গার্মেন্টকর্মী, গাড়িচালক, ইলেকট্রিশিয়ান ও বিভিন্ন খাতে সেবা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করেছেন। আধাদক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন প্রায় ১৭ শতাংশ। তাঁরা বিদেশে নির্মাণ শ্রমিক, কাঠমিস্ত্রি ও নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া ৩ শতাংশ কর্মী বিদেশে চিকিৎসক, সেবিকা, প্রকৌশলী ও স্থপতি হিসেবে ভালো চাকরি পেয়েছেন। ঢাকায় আইওএমের আঞ্চলিক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ক্রিস্টিনা মেজো সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত হুমকির মুখে পড়তে পারে।
আইওএমের ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএমইটি মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে ৩৮টি কেন্দ্রে কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া আরো ৩৫টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে।
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে কুয়েত সরকার আগামী পাঁচ বছর তাদের দেশে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের আলোচনা সফল হওয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা পেতে পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে না বলে দেশটির পক্ষ থেকে আশ্বাস মিলেছে। এ দুটি বিষয়কেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। তাঁরা বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার সন্ধান করার পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের কারিগরি ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন।

Advertisements

July 9, 2010 - Posted by | Foreign Affairs, International, National | , , ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: