My Blog My World

Collection of Online Publications

ভারতের ভিসা পাওয়া আরো সহজ হচ্ছে; প্রতিদিন পাচ্ছে আড়াই হাজার বাংলাদেশি

মেহেদী হাসান

(প্রতিবেদনটি ১৭ জুলাই কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে। কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি পড়তে ক্লিক করুন)
(This news has been published at the Daily Kaler Kantho on July 17, 2010)
আবেদন প্রক্রিয়ার বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভিসা পাওয়া আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। বর্তমানে চারটি আবেদন কেন্দ্র এবং একটি সহকারী হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রত্যেক কর্মদিবসে প্রায় আড়াই হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে। আবেদন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে এ প্রক্রিয়া আরো সহজ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভারতীয় কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে জানান, ভারতীয় ভিসা পদ্ধতি এরই মধ্যে অনেক সহজ করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য বা সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে গমনেচ্ছুরা এখন আগের চেয়ে সহজে ভিসা পাচ্ছেন। পর্যটক ভিসাও আগের চেয়ে বাড়ছে।
ওই কূটনীতিক বলেন, ‘গত বছর পাঁচ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ভিসা পেয়েছেন। ভারতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত বছর সাড়ে চার লাখেরও বেশি বাংলাদেশি পর্যটক ভারত সফরে গেছেন। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতীয় ভিসার সংখ্যা গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় বেড়েছে।’ আগামী দিনগুলোতে এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে তিনি জানান।
জানা গেছে, আগে ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে অনেককে রাত জেগে ঢাকার গুলশানে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো। এ ক্ষেত্রে তাদের দালালের শরণাপন্ন হতে হতো। রোদ-বৃষ্টির মধ্যেও দাঁড়িয়ে থাকতে হতো লাইনে। গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ই-টোকেন ব্যবস্থা চালু করার ফলে হাইকমিশনের সামনে আর আবেদনকারীদের ভিড় জমে না।
ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রত্যেক কর্মদিবসে প্রায় আড়াই হাজার ভিসা পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। বর্তমানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিসা আবেদন কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে ঢুকেন। সেখানে ফরম পূরণ করে ই-টোকেনের কপি নিয়ে নির্ধারিত তারিখে ভিসা আবেদন কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে হয়। অধিকাংশই আবেদন করেন পর্যটক ভিসার জন্য। আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করলে বা ভিসা প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে কোনো আবেদনকারীকে হাইকমিশনে আসতে বলেন। তবে স্বল্পসংখ্যক আবেদনকারীকেই হাইকমিশনে ডাকা হয় বলে জানা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে হাইকমিশন থেকে ফোনেও আবেদনকারীকে প্রশ্ন করা হয়। ই-টোকেন ব্যবস্থায় অধিকাংশ আবেদনকারী হাইকমিশনে না গিয়েই ভিসা পায় বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় দুইটি (গুলশান ও মতিঝিল) এবং ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও সিলেটে একটি করে ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু আছে। এ ছাড়া রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনেও ই-টোকেনের মাধ্যমে আবেদনপত্র গ্রহণ করে ভিসা দেওয়া হচ্ছে।
হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে খুলনায়ও একটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করার প্রক্রিয়া চলছে।
জানা গেছে, পর্যটন, ব্যবসা ও চিকিৎসার জন্য ভিসা পাওয়া সহজ হলেও এমপ্লয়মেন্ট ভিসা পাওয়া কিছুটা জটিল। এ ক্ষেত্রেও ভিসা ব্যবস্থা সহজ করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রকৃত অর্থে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে ভিসার আবেদনকে ভারতীয় হাইকমিশন বিশেষ গুরুত্ব দেয় বলে হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে। তবে মুম্বাই হামলার পর ট্যুরিস্ট ভিসার নীতিমালায় পরিবর্তন হওয়ায় ‘মাল্টিপল এন্ট্রি-এক্সিট’ পর্যটক ভিসাধারীরা একবার ভারত থেকে ফিরে আসার দুই মাসের মধ্যে নিজ দেশের ভারতীয় মিশনের অনুমতি ছাড়া আবার সফর করতে পারেন না।
পর্যটক ভিসার ক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রসঙ্গে হাইকমিশন সূত্র জানায়, মুম্বাই হামলার পর যখন দেখা গেলো লস্কর-ই-তৈয়েবা সদস্য পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডেভিড কোলম্যান হেডলি ভারতীয় মাল্টিপল ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে বারবার ভারতে গেছেন, তখন সরকারের পক্ষ থেকে ভিসা ইস্যুকারী ভারতীয় মিশনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা ভিসা দেওয়ার জন্য বিবেচ্য বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করেছিল কি না। মুম্বাই হামলার পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা হুমকির কারণে মানুষের সন্দেহ যে বেড়েছে, তা এখন বিমানবন্দরগুলোতে গেলেই উপলব্ধি করা যায়। নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এর পরও বাংলাদেশকে প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্র বিবেচনা করে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে আবেদনপত্র যত দ্রুত সম্ভব যাচাই করে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে এবং অধিকাংশ আবেদনকারী হাইকমিশনে না গিয়েই ভিসা পাচ্ছেন। দিনে প্রায় আড়াই হাজার ভিসা বাংলাদেশে আর কোনো মিশন দেয় না বলে ওই সূত্র জানায়।
হাইকমিশন থেকে জানানো হয়েছে, মাল্টিপল এন্ট্রি-এক্সিট পর্যটক ভিসার ক্ষেত্র দুই মাসের মধ্যে একাধিকবার সফরের সুযোগ বন্ধ করা হলেও ক্ষেত্রবিশেষে ও প্রকৃত প্রয়োজনে আবেদন করলে হাইকমিশন তা বিবেচনা করে থাকে। বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবসায়ী, কূটনীতিক বা প্রকৃতই ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুই মাসের মধ্যে একাধিকবার ভারতে যাওয়ায় কোনো বাধা নেই।
ই-টোকেন ব্যবস্থা চালু প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকারের প্রযুক্তিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ ই-টোকেন ব্যবস্থা চালু করতে ভূমিকা রেখেছে।

Advertisements

July 17, 2010 - Posted by | Analysis, National | , ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: