My Blog My World

Collection of Online Publications

নাগরিকত্ব প্রমাণের অপেক্ষা: কলকাতার আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটে বাংলাদেশি শিশু কৃষ্ণা ও অনিমার

কৃষ্ণা

অনিমা

(প্রতিবেদনটি ২২ জুলাই দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে)
(This report has been published at the Daily Kaler Kantho on July 22, 2010)

মেহেদী হাসান

অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ভারতে প্রায় চার বছর কারাভোগ করার পর গত ৩০ জুন বাংলাদেশে ফিরেছেন দিনাজপুরের মদন বর্মণ ও তাঁর স্ত্রী মালতী বর্মণ। কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে না পারায় তাঁদের দুই সন্তান কৃষ্ণা (১৪) ও অনিমা (১২) দেশে ফিরতে পারেনি। ফলে এখনো বাংলাদেশি নাগরিকত্ব প্রমাণের অপেক্ষায় এই দুই বোনকে কলকাতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাতে হচ্ছে। এখন বাংলাদেশ থেকে নাগরিকত্বের প্রমাণ পাঠানো হবে_এই আশায়ই দিন যাচ্ছে তাদের।
বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) কৃষ্ণা ও অনিমার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মা-বাবার সঙ্গে তাদের গ্রহণ না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় দুই শিশুর নাগরিকত্ব সম্পর্কে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ তথ্য পাঠাতে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
জানা গেছে, কৃষ্ণা ও অনিমা এখন কলকাতাবাসীর কাছে বেশ পরিচিত নাম। তাদের দুরবস্থার কথা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৭ সালে এই শিশু দুটির জন্য ভারতের আদালত মানবিক বিবেচনায় এক বিশেষ রায় দিয়েছিলেন। ভারতের আইনে না থাকলেও জাতিসংঘের শিশু সনদকে গুরুত্ব দিয়ে দণ্ডিত আসামি মা মালতি বর্মণকে প্রতি সপ্তাহে কিশোর অপরাধ সংশোধন কেন্দ্রে অবস্থানকারী তাঁর দুই সন্তানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিয়েছিলেন। শিশু অধিকার রক্ষায় আদালতের ওই রায় বেশ আলোড়ন তুলেছিল। কিন্তু সেই শিশু দুটির নিজ দেশে ফিরে আসতে এত বিড়ম্বনার শিকার_সংশ্লিষ্টদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।
কলকাতাভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা দিগন্ত ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ইতিমধ্যে কৃষ্ণা ও অনিমাকে দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে। দিগন্ত ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশু দুটিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে অনুরোধ জানায়।
জানা গেছে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল হাসান মৃধা বিষয়টি জানার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। চিঠিতে যত দ্রুত সম্ভব ওই শিশু দুটির নাগরিকত্ব সম্পর্কে তথ্য পাঠাতে অনুরোধ করা হয়।
দুই শিশুকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সম্পর্কে ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাবেক রাষ্ট্রদূত মহসীন আলী খান গতকাল বুধবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁরা ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকত্ব সম্পর্কে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর ওপর ওই দুই শিশুর দেশে ফেরা নির্ভর করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান ও স্বরাষ্ট্র সচিব আব্দুস সোবহান শিকদারের কাছে গত ১৪ জুলাই চিঠি পাঠায় ব্লাস্ট। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ব্লাস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

Advertisements

July 21, 2010 - Posted by | Children, Foreign Affairs, National | , , , , , ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: