My Blog My World

Collection of Online Publications

শ্রমবাজারে সুখবর : সুইডেন ও কঙ্গো যাচ্ছেন কর্মীরা, সুযোগ আসছে সিঙ্গাপুর-মরিশাসেও

(প্রতিবেদনটি ২৩ জুলাই কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে)

(This report of Mahadi Hasan has been published at The Daily Kaler Kantho on June 23, 2010)

মেহেদী হাসান

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার পর অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিল জনশক্তি খাত। তবে গত এক সপ্তাহে এই বাজার নিয়ে বেশ কটি সুখবর পেয়েছে ঢাকা। ৬০ সদস্যের একটি কর্মী দল আজ শুক্রবার সুইডেনে পেঁৗছাবে। উচ্চ বেতনে চাকরি নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরো কয়েকটি দলের সুইডেনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। এদিকে কাজের সুযোগ নিয়ে গত সপ্তাহে কঙ্গো গেছেন প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি কর্মী। সিঙ্গাপুর ও মরিশাসের শ্রমবাজারেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে দেশ দুটির শ্রমবাজারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি নারীকর্মীদের প্রাধান্য দেবে বলে জানা গেছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী সরকারের শ্রমবাজার খোঁজ অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে শ্রমবাজারের জন্য যোগ্য করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বিএমইটি সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম কর্মী দলটির সুইডেনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ ভোরের আগেই তাদের ঢাকা ছাড়ার কথা। সুইডেনে গিয়ে তারা মৌসুমি ফল তোলার কাজ করবে। প্রথম কর্মী দলের কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরো কর্মী সুইডেনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি কর্মী সুইডেনে কাজের সুযোগ পাবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহে আরেক নতুন শ্রমবাজার কঙ্গোর উদ্দেশে বাংলাদেশি কর্মীরা যাত্রা শুরু করেছেন। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ জন কঙ্গো গেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরো প্রায় দুই হাজার কর্মী কঙ্গো যাবেন বলে বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে। কঙ্গোতে বাংলাদেশিরা খনিতে কাজ করবেন।

বাংলাদেশিদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে সিঙ্গাপুর ও মরিশাসেও। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার নারী গৃহকর্মী নেবে। তাঁরা সিঙ্গাপুরে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো আয় করবেন বলে বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিনিধিদলের শিগগিরই বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী এক বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ছয় হাজার কর্মী মরিশাসে কাজের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে নারীকর্মীর সংখ্যা হবে প্রায় পাঁচ হাজার। তাঁরা মৎস্যপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও বস্ত্র খাতে কাজের সুযোগ পাবেন বলে জানা গেছে। সলোমন দ্বীপপুঞ্জে বাংলাদেশি জেলেদের কাজের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।

বিএমইটি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার কিছুটা সংকুচিত হচ্ছে। এত দিন সৌদি আরব ছিল বাংলাদেশি কর্মীদের প্রধান শ্রমবাজার। সেখানে ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। সৌদি সরকার এখন বাংলাদেশ থেকে বেশি হারে জনশক্তি নিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। তা ছাড়া সৌদি জনগণের মধ্যে কাজ করার প্রবণতা আগের চেয়ে বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণের হার বেড়েছে। মাঝে কয়েক দিন যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট ইস্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা পেতে বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা হলেও সরকারের হস্তক্ষেপে তা দূর হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ কমলেও অন্য দেশগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়ছে। তা ছাড়া এখন সরকার জনশক্তি প্রেরণে প্রতারণা ঠেকাতে সতর্কতা অবলম্বন করছে। এ কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদেশের বিমানবন্দরে বাংলাদেশি কর্মীদের আটকে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিএমইটির মহাপরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেছেন, সুইডেনের মতো বাজারে খুব বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর কাজের সুযোগ সৃষ্টি না হলেও তাঁরা ভালো বেতন পাবেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনশক্তি পাঠানোর হার কমলেও রেমিট্যান্সের হার সে অনুযায়ী কমেনি।

Advertisements

July 23, 2010 - Posted by | Foreign Affairs, Gender, Group, International, National | ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: