My Blog My World

Collection of Online Publications

টাস্কফোর্সের বৈঠক: ভিজিট ভিসায় কর্মী পাঠানো বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ

মেহেদী হাসান

(প্রতিবেদনটি ৫ আগস্ট কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে)

(The report has been published at the Daily Kaler Kantho on 5 August, 2010)

বিদেশগামী কর্মীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে ১১ দফা সুপারিশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নবগঠিত টাস্কফোর্স। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্স/ভিজিল্যান্স টিমের প্রথম সভায় সুপারিশগুলো প্রণীত হয়। সভায় ‘ভিজিট ভিসা’য় বিদেশ গিয়ে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় টাস্কফোর্স সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সভায় উলি্লখিত সমস্যা সমাধানে করণীয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সভায় ভিজিট ভিসাধারী যাত্রীদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রতারণা ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। টাস্কফোর্স ১১ সুপারিশমালার প্রথমেই ভিজিট ভিসার মাধ্যমে গমনকারী যাত্রীদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাচাই করতে বিমানের টিকিট ইস্যুর সময় টিআইএন নম্বর এবং দুই বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রদর্শন করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে। ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিশ্চিত হয়ে বহির্গমন অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন টাস্কফোর্স সদস্যরা। পাশাপাশি ভিজিট ভিসায় বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজারগুলোয় গমনকারী যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রয়কালে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাচাইয়ে সর্বাত্দক প্রচেষ্টা চালাতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সভায় প্রতিটি এয়ারলাইন্সে ‘ওকে টু বোর্ড’ পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি নিশ্চিত করার সম্ভাবনা যাচাই করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টাস্কফোর্স অভিবাসন ব্যয় যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করারও পরামর্শ দেয়।

উল্লেখ্য, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রিক্রুটিং এজেন্সির কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ভিসা নিয়ে অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ এবং বিদেশগামী কর্মীর যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে যুগ্মসচিব মো. আসাদুল ইসলামকে সভাপতি করে গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ৯ সদস্যের টাস্কফোর্স/ভিজিল্যান্স টিম গঠন করে। টাস্কফোর্সে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিচালক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব, বিএমইটির পরিচালক (বহির্গমন), পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের একজন উপকমিশনার, র‌্যাবের একজন উপপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক, মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব ও বায়রা প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রাখা হলেও পরে ডিএমপির উপকমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এসএস (ইমিগ্রেশন) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বিদেশ গমনকারীর উদ্দেশ্য জানা কঠিন। গত ছয় মাসে এই ভিসায় যাওয়া ১০০ যাত্রী ফেরত এসেছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এভাবে মালয়েশিয়া, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, মালদ্বীপে যাচ্ছে বাংলাদেশিরা। একপর্যায়ে অবৈধ অভিবাসী হয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে তারা। তিনি ওকে টু বোর্ড পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দেন।

র‌্যার-৩-এর মেজর গাজী আশিকুর রহমান অভিবাসন ব্যয় নিয়ে রিক্রটিং এজেন্সিগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের দাবি জানান।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (বহির্গমন) সেলিম রেজা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর স্বচ্ছতা এবং টাস্কফোর্সকে পুরো বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বহি: ৩) মো. বেলায়েত হোসেন তালুকদার বৈঠকে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর হাত থেকে কর্মীদের ঠেকাতে টাস্কফোর্সকে একটি প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেন।

টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার প্রতিনিধি প্রথম সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে বায়রার সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার কালের কণ্ঠকে জানান, সময়মতো চিঠি হাতে না পেঁৗছানোয় তাদের প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

Advertisements

August 5, 2010 - Posted by | Uncategorized | , ,

No comments yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: